ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৮ হাজার মুসলিম হত্যাকারীকে সামরিক সম্মান হরমুজে জাহাজ চলাচল তলানিতে, এক দিনে পার হলো মাত্র ৪টি রাষ্ট্রপতিকে বরণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের সঙ্গে লাগোয়া চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় ভারতের নতুন উদ্যোগ একাত্তরে মুসলিম লীগ করায় শান্তি কমিটিতে ছিলেন আসিফ আকবরের বাবা আগামী তিন মাসে বিপুল ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে ধর্মের নামে কোনো বিভাজন চায় না সরকার: প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্প-হেগসেথ যুদ্ধাপরাধী: মার্কিন কংগ্রেস সদস্য

রাষ্ট্রপতিকে বরণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি ঠাকুরগাঁও সফর করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বরণ করে নিতে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলায়। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শহরের চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। নতুন করে রং করা হচ্ছে সড়কের ডিভাইডার, পরিষ্কার করা হচ্ছে রাস্তার পাশের এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজিয়ে তোলার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ। নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের কাছে রাষ্ট্রপতির এ সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; নিজ জেলার সন্তান দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন—এটিকেই তারা দেখছেন বিশেষ গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দুই দিনের সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণের পর তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

এরপর সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক বাসভবনসংলগ্ন কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। পরে কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে যাবেন।

বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। পরে নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে বিদায়ী গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

এদিকে সফর ঘিরে পুরো জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরাও ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৮ হাজার মুসলিম হত্যাকারীকে সামরিক সম্মান

রাষ্ট্রপতিকে বরণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, জোরদার হচ্ছে নিরাপত্তা

আপডেট সময় ০৩:২৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি ঠাকুরগাঁও সফর করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বরণ করে নিতে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলায়। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শহরের চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। নতুন করে রং করা হচ্ছে সড়কের ডিভাইডার, পরিষ্কার করা হচ্ছে রাস্তার পাশের এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজিয়ে তোলার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নির্মাণ করা হচ্ছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ। নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয়দের কাছে রাষ্ট্রপতির এ সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; নিজ জেলার সন্তান দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন—এটিকেই তারা দেখছেন বিশেষ গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দুই দিনের সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণের পর তিনি সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

এরপর সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক বাসভবনসংলগ্ন কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তিনি। পরে কালীবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে যাবেন।

বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। পরে নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে বিদায়ী গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

এদিকে সফর ঘিরে পুরো জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরাও ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।