ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ নয়, বরং ‘মাফিয়া শাসক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলি না। তাকে ফ্যাসিস্ট বললে এক ধরনের সম্মান দেওয়া হয়। কারণ ফ্যাসিবাদের একটি রাজনৈতিক দর্শন থাকে। শেখ হাসিনা মূলত একজন মাফিয়া শাসকের উদাহরণ।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান (ইভলভিং) প্রকল্প। সময়ের সঙ্গে নতুন তথ্য, দলিল ও উপকরণ যুক্ত করে জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। দর্শনার্থীদের মতামতও এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে।
তিনি জানান, জাদুঘরটির মূল উদ্দেশ্য দুটি বিষয় তুলে ধরা। প্রথমত, কীভাবে একজন শাসক ধাপে ধাপে একটি মাফিয়াচক্রের নেতৃত্বে পরিণত হন এবং দ্বিতীয়ত, কীভাবে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে সেই শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
ডা. জাহেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বৈরতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের পরিণতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এখানে একদিকে যেমন শাসনের নির্মম দিক তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে মানুষের সাহস, প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও সংরক্ষিত হয়েছে।
জুলাই শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু তরুণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই একজন স্বৈরশাসকের পতন সম্ভব হয়েছে। এই জাদুঘর বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আর কোনো জুলাই গণঅভ্যুত্থান চাই না। আর কোনো তরুণের জীবনও যেন দিতে না হয়। আমরা এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন হবে এবং যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য এই জাদুঘর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























