মেহেরপুরে গবাদিপশুর পাশাপাশি মানুষের মধ্যেও অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ পশুর মাংস কাটা ও নাড়াচাড়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গাংনী কাজিপুর ও হাড়াভাঙ্গা গ্রামে ২০০৮ সালে প্রথম অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই সময় হঠাৎ করে গবাদিপশু মারা যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের শরীরে ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। পরে চিকিৎসকরা এসব ঘটনায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে অ্যানথ্রাক্স শুধু কাজিপুর ও হাড়াভাঙ্গা গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গরু ও ছাগল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত পশুর মাংস কাটা বা নাড়াচাড়া করার পর অনেকের শরীরে ক্ষত দেখা দিচ্ছে। এসব ক্ষত নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে ৪১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি বছরে মেহেরপুরে ৪২৯ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে প্রথমে ছোট ফুসকুড়ি বা ক্ষত দেখা দেয়। পরে তা ধীরে ধীরে বড় হয়ে কালো রং ধারণ করে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। এতে আক্রান্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গাংনী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাটিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে। আক্রান্ত পশুর রক্ত ও মাংস থেকে জীবাণু মাটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম চালানো হলেও জনবল সংকটসহ নানা কারণে রোগটি নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে না বলে জানান।
গাংনী উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদুর রহমান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের ফুসফুসীয় ও খাদ্যনালির সংক্রমণ হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।
তবে মেহেরপুরে বর্তমানে কতটি গবাদিপশু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে নেই।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সতর্কতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত পশু দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস কাটা, নাড়াচাড়া ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















