ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পার্ক করে রাখা গাড়িতে ধাক্কা, প্রাণ গেল ৮ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না: লংমার্চে সেলিম উদ্দিন আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান: সাবেক মার্কিন দূত প্রবল স্রোত, কাদা আর অন্ধকার টানেলে ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই নেপালি! নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ জন কলেজ শিক্ষককে মারধরের মামলা নেওয়ায় ওসিকে পেটানোর হুমকি বগা’র আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের তদন্তে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারের নাম আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে রাস্তায় নেমেছি: জামায়াত আমির ভাড়া বাসা থেকে নবজাতকসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার পথে পথে সভা সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের তদন্তে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারের নাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

এবার আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একটি চক্রের বাণিজ্যিক প্রকল্পে জড়িয়ে পড়েছে সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরোর নাম। তবে আর্জেন্টাইন আদালতের তদন্ত নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আগুয়েরো এই মামলার কোনো আসামি বা অভিযুক্ত ব্যক্তি নন। মূলত তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও ব্র্যান্ড মূল্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত করেছিল সন্দেহভাজন ওই অপরাধী চক্রটি। বিচারক পাবলো ইয়াদারোলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে দেখা যায়, একটি টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালুর অজুহাতে চক্রটি সাবেক এই ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ডকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত এই অপরাধী চক্রটি, যা এখন আদালতের কঠোর আইনি পর্যালোচনার অধীন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক সন্দেহভাজনদের ফোন জব্দ করে পাওয়া বার্তা ও নথি বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুয়েরোর প্রতিষ্ঠিত ইস্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কিতক্রু টিকিটসনামের একটি ব্র্যান্ড চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। প্রজেক্টটির আড়ালে মূলত আগুয়েরোর বিশ্বব্যাপী সুনামকে পুঁজি করে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা আদায় ও অর্থ পাচার করাই ছিল অপরাধীদের আসল লক্ষ্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি বলিভিয়া থেকে কোকেন এবং স্পেন থেকে সিন্থেটিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই চক্রের অন্যতম সন্দেহভাজন পিবট আলভারেজসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর আলভারেজ অনশন শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া বেশ কিছু বার্তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন দিয়েগো ফ্রান্সিসকো আনজালনি, বোনো ওজি দে কারলুচি, রাউল ওমার ব্রুহো মানজোনি এবং আলভারেজ। আভেলিয়ানেদা শহরের ইন্ডিপেনদিয়েন্তে স্টেডিয়ামের কাছে রিকার্দো বোচিনি স্ট্রিটের একটি আস্তানায় তাদের কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারির এক বার্তায় আনজালনি তাঁর সহযোগী দে কারলুচিকে জানান, টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তিনি দ্রুতই আগুয়েরোর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করবেন। এর কিছুদিন পর একাধিক শেল বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রজেক্টটি চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এই কোম্পানিগুলোর একটির নেপথ্যে ছিলেন এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, আর অন্যটির লক্ষ্য ছিল আগুয়েরোর প্রজেক্টটি।

পরবর্তীতে চুক্তিটি পাকাপোক্ত করতে গত ২২ এপ্রিল মেক্সিকো সফরের কথা বলা হয় এবং আনজালনি তার মধ্যস্থতাকারীদের জানান, তিনি আগুয়েরোর সঙ্গে সরাসরি দেখাও করেছেন। প্রজেক্টটির প্রাথমিক মূলধনে যেন আগুয়েরোকে কোনো টাকা দিতে না হয়, সে জন্য আনজালনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার ইউরো তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে ব্যাপক আইনি পর্যালোচনা চলছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবারও নিশ্চিত করেছেন, আদালতের কোনো নথিতেই সার্জিও আগুয়েরোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পার্ক করে রাখা গাড়িতে ধাক্কা, প্রাণ গেল ৮ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীর

আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের তদন্তে আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলারের নাম

আপডেট সময় ১১:০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত একটি চক্রের বাণিজ্যিক প্রকল্পে জড়িয়ে পড়েছে সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরোর নাম। তবে আর্জেন্টাইন আদালতের তদন্ত নথিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, আগুয়েরো এই মামলার কোনো আসামি বা অভিযুক্ত ব্যক্তি নন। মূলত তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও ব্র্যান্ড মূল্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত করেছিল সন্দেহভাজন ওই অপরাধী চক্রটি। বিচারক পাবলো ইয়াদারোলার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে দেখা যায়, একটি টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালুর অজুহাতে চক্রটি সাবেক এই ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ডকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত এই অপরাধী চক্রটি, যা এখন আদালতের কঠোর আইনি পর্যালোচনার অধীন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক সন্দেহভাজনদের ফোন জব্দ করে পাওয়া বার্তা ও নথি বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুয়েরোর প্রতিষ্ঠিত ইস্পোর্টস ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কিতক্রু টিকিটসনামের একটি ব্র্যান্ড চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। প্রজেক্টটির আড়ালে মূলত আগুয়েরোর বিশ্বব্যাপী সুনামকে পুঁজি করে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা আদায় ও অর্থ পাচার করাই ছিল অপরাধীদের আসল লক্ষ্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত চক্রটি বলিভিয়া থেকে কোকেন এবং স্পেন থেকে সিন্থেটিক মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই চক্রের অন্যতম সন্দেহভাজন পিবট আলভারেজসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর আলভারেজ অনশন শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া বেশ কিছু বার্তা মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন দিয়েগো ফ্রান্সিসকো আনজালনি, বোনো ওজি দে কারলুচি, রাউল ওমার ব্রুহো মানজোনি এবং আলভারেজ। আভেলিয়ানেদা শহরের ইন্ডিপেনদিয়েন্তে স্টেডিয়ামের কাছে রিকার্দো বোচিনি স্ট্রিটের একটি আস্তানায় তাদের কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারির এক বার্তায় আনজালনি তাঁর সহযোগী দে কারলুচিকে জানান, টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তিনি দ্রুতই আগুয়েরোর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করবেন। এর কিছুদিন পর একাধিক শেল বা ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে প্রজেক্টটি চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এই কোম্পানিগুলোর একটির নেপথ্যে ছিলেন এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, আর অন্যটির লক্ষ্য ছিল আগুয়েরোর প্রজেক্টটি।

পরবর্তীতে চুক্তিটি পাকাপোক্ত করতে গত ২২ এপ্রিল মেক্সিকো সফরের কথা বলা হয় এবং আনজালনি তার মধ্যস্থতাকারীদের জানান, তিনি আগুয়েরোর সঙ্গে সরাসরি দেখাও করেছেন। প্রজেক্টটির প্রাথমিক মূলধনে যেন আগুয়েরোকে কোনো টাকা দিতে না হয়, সে জন্য আনজালনি নিজেই প্রায় ১০ হাজার ইউরো তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আদালতে ব্যাপক আইনি পর্যালোচনা চলছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা আবারও নিশ্চিত করেছেন, আদালতের কোনো নথিতেই সার্জিও আগুয়েরোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই।