আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো এই অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরবেন তিনি।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকীসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এটিকে জাতীয় গৌরবের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কারণেই এ কূটনৈতিক সাফল্য এসেছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন মিশনে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশের একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালুর পাশাপাশি কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের তথ্য একটি একক ডেটাবেজে আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দুই লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যের প্রচারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















