পদত্যাগ না করার অবস্থানে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী। আবারও সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক।’
তবে আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ৯ জন বিধায়ক। যে ঘটনায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মমতার কপালে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭ আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। হেরে গিয়েছে তৃণমূল। অথচ ভোটের ফল মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা রয়েছে তার।
এই প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, ‘আদালতে আমি, চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র্যাকটিস করব। নানা মামলা যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই আইনজীবী হিসেবে দেখব।’
নতুন সরকারের শপথের দিন ৯ মে (শনিবার) দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশও দেন তিনি।
দল যে ভেতর থেকে ভাঙছে, তার বোধ হয় প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন মমতা। দলে ভাঙনের আশঙ্কা যে প্রবল, মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে বরাবরের ‘লড়াকু’ নেত্রী আত্মবিশ্বাসী যে একদিন না একদিন দল ঠিক ঘুরে দাঁড়াবেই। তার কথায়, ‘আমিও একসময় একা ছিলাম। ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দল ঘুরে দাঁড়াবেই।’
বৈঠকে দলের ‘দুঃসময়ে’ সবাইকে আরও একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মতে, এমন ভরাডুবির নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্ঘাত। সে কথা মাথায় রেখে এদিন মমতা বলেন, ‘যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে, তাদের নাম দিন।’
মমতা আরও জানান, ভোটে বিপর্যয়ের পর থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে সেসব এলাকায় যাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা হচ্ছে। যেখানে অভিযোগ নিচ্ছে না, সেখানে অনলাইনে অভিযোগ জানান।’
আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তা-ভাবনাও করছেন তিনি। অভিষেকের কথা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল দেখবেন। আর অভিষেক অনুগত ‘সেনাপতি’র মতো থাকবেন তার পাশেই।
এদিকে কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ১০ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বৈঠকে পৌঁছেছিলেন ৭০ জন। অনুপস্থিত বিধায়কের এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করছে।
প্রশ্ন উঠছে, এই বিধায়করা কি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, নাকি দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ থেকে তারা দূরত্ব বজায় রাখলেন? পরাজয়ের এই আবহে দলের সংহতি বজায় রাখাই এখন মমতার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ মে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন সরকার শপথগ্রহণ করবে। ৭ মে শেষ হচ্ছে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ। তার আগেই মমতা পদত্যাগ না করলে স্বাভাবিকভাবেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন মমতা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে মাত্র দুই দিনের জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন রাজ্যপাল।

ডেস্ক রিপোর্ট 

















