ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি দাম উপেক্ষা, ৩ মাসে হার্টের রিং বিক্রিতে অতিরিক্ত আদায় ৫ কোটি টাকা বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ খেলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কঠোর শর্ত বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে অপচয় করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি: চরমোনাই পীর সিগারেট ফিল্টারের কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানিতে বসছে ৩০০% শুল্ক  আর্জেন্টিনার জার্সি পরিহিতদের ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিপাকে আইনজীবী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করলো ইরান ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, এশিয়ার ৩ দেশে সুনামি সতর্কতা ব্যস্ত সময় কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস আ. লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছুরের জানাজায় মানুষের ঢল

নিটোরে ‘জুলাই আহত’দের চিকিৎসা বঞ্চনা, আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
  • ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)‑এ চিকিৎসাধীন— চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষায়—‘জুলাই অভ্যুত্থান’‑এ আহত ব্যক্তিরা গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, ঈদের ছুটিকে অজুহাত দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ নতুন ভর্তি বন্ধ রেখেছে, আর আগে ভর্তি থাকা রোগীদেরও ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে ফেরত এলে আর গেট খুলছে না। ফলে বেশ কয়েকজন আহত ফ্লোরে বা বারান্দায় রীতিমতো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটির সদস্যরা নিটোর পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আহত সৌরভ বলেন, “ভর্তি রোগীদের বলা হয়েছিল ঈদের পর ফিরলে আবার বেড পাওয়া যাবে, কিন্তু এখন কেউ কথা রাখছে না। যাদের গুরুতর ক্ষত আছে, ঠিকমতো ড্রেসিং না হওয়ায় পচন পর্যন্ত ধরেছে।” একই সুরে আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই ‘জুলাই আহত’দের চিকিৎসা বিলম্বিত করা হচ্ছে।

নিটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে—ঈদ ছুটির সময় পর্যাপ্ত নার্স ও রেসিডেন্ট চিকিৎসক না থাকায় ভর্তি সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের যুক্তি, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা কখনও ‘ছুটির’ অজুহাতে বন্ধ করা যায় না।

আহতদের অনেকেই সতর্ক করে বলেন, “যদি চিকিৎসা নিশ্চিত না হয়, আবারও ‘জুলাই‑ভাবনা’ জেগে উঠতে পারে।” বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আহতদের অবহেলা করা হলে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের চিকিৎসা বঞ্চনা কেবল নৈতিক‑মানবিক দিক থেকেই নয়, আইনগতভাবেও গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সার্জিক্যাল ও রিহ্যাবিলিটেশন সহায়তা না পেলে অনেক আহতের স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই আরও চাপ তৈরি করবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দাম উপেক্ষা, ৩ মাসে হার্টের রিং বিক্রিতে অতিরিক্ত আদায় ৫ কোটি টাকা

নিটোরে ‘জুলাই আহত’দের চিকিৎসা বঞ্চনা, আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ১২:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)‑এ চিকিৎসাধীন— চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষায়—‘জুলাই অভ্যুত্থান’‑এ আহত ব্যক্তিরা গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, ঈদের ছুটিকে অজুহাত দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ নতুন ভর্তি বন্ধ রেখেছে, আর আগে ভর্তি থাকা রোগীদেরও ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে ফেরত এলে আর গেট খুলছে না। ফলে বেশ কয়েকজন আহত ফ্লোরে বা বারান্দায় রীতিমতো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটির সদস্যরা নিটোর পরিদর্শনে গেলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আহত সৌরভ বলেন, “ভর্তি রোগীদের বলা হয়েছিল ঈদের পর ফিরলে আবার বেড পাওয়া যাবে, কিন্তু এখন কেউ কথা রাখছে না। যাদের গুরুতর ক্ষত আছে, ঠিকমতো ড্রেসিং না হওয়ায় পচন পর্যন্ত ধরেছে।” একই সুরে আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই ‘জুলাই আহত’দের চিকিৎসা বিলম্বিত করা হচ্ছে।

নিটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে—ঈদ ছুটির সময় পর্যাপ্ত নার্স ও রেসিডেন্ট চিকিৎসক না থাকায় ভর্তি সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের যুক্তি, জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা কখনও ‘ছুটির’ অজুহাতে বন্ধ করা যায় না।

আহতদের অনেকেই সতর্ক করে বলেন, “যদি চিকিৎসা নিশ্চিত না হয়, আবারও ‘জুলাই‑ভাবনা’ জেগে উঠতে পারে।” বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আহতদের অবহেলা করা হলে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ, এ ধরনের চিকিৎসা বঞ্চনা কেবল নৈতিক‑মানবিক দিক থেকেই নয়, আইনগতভাবেও গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সার্জিক্যাল ও রিহ্যাবিলিটেশন সহায়তা না পেলে অনেক আহতের স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই আরও চাপ তৈরি করবে।