ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৫ মাস পূর্ণ করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইসরায়েল ছাড়বে এক-চতুর্থাংশ ইহুদি ভুলে ‘জয় বাংলা’ বলা এনসিপি নেতা বললেন, ‘জীবনেও আওয়ামী লীগ করিনি’ নতুন বউ নিয়ে ফেরার পথে সড়কে ঝরল ২ প্রাণ শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন: রণধীর জয়সওয়াল মোবাইল চোরকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করালেন গ্রামবাসী রাসেল ভাইপারের কামড়ে আহত শিশু, সাপসহ হাসপাতালে পরিবার ‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বানানো হয়: পুলিশ সুপার ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরঘেরা কারাগার তৈরি করছে ইসরায়েল

সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা আর নয়, ক্যাম্পাস থেকেই তৈরি হবে উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

এবার সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হলেও ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই বেকার থাকছেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশচায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামেদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনশোষণ শুধু জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হলে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হবে।উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এর অধীন ২ হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন এবং এরইমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ফলে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এই বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কারণে অনেক পুরোনো পেশা বিলুপ্ত ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তবে একইসঙ্গে প্রচুর নতুন নতুন ক্ষেত্রেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলামে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, শিক্ষা কারিকুলামকে পূর্ণাঙ্গ করতে হলে এখন থেকে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্স, প্রোগ্রামিং ও ডিজিটাল অণুপ্রেরণা, ডিজিটাল কমিউনিকেশন ও ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির মতো সফট স্কিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভজি ওয়্যারলেস টেকনোলজির মতো বিষয়গুলোকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। সরকার এরইমধ্যে প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে কর্মমুখী করার কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণে বর্তমান সরকারইন্ডাস্ট্রিএকাডেমিয়া লিংকেজএবং ইন্টার্নশিপ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ঘটিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীনই বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাস থেকেই ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা তৈরি করতে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়াবাণিজ্যিকীকরণ করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সরকারসিড ফান্ডিংবাইনোভেশন গ্র্যান্টপ্রদান করবে। এর ফলে তরুণরা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য শিক্ষকের জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার ওপর নির্ভর করে। তাই শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামনেরোল মডেলএবং সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে হবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দেশের যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিখতে পারলে দেশবিদেশে কোথাও চাকরির অভাব হবে না।পরিশেষে, একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরসবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাস পূর্ণ করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার

সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষা আর নয়, ক্যাম্পাস থেকেই তৈরি হবে উদ্যোক্তা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

এবার সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে দেশে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হলেও ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই বেকার থাকছেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশচায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামেদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিগত শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনশোষণ শুধু জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারই কেড়ে নেয়নি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হলে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হবে।উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে এর অধীন ২ হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন এবং এরইমধ্যে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ফলে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে এই বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের কারণে অনেক পুরোনো পেশা বিলুপ্ত ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তবে একইসঙ্গে প্রচুর নতুন নতুন ক্ষেত্রেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলামে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি বলেন, শিক্ষা কারিকুলামকে পূর্ণাঙ্গ করতে হলে এখন থেকে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেনসিক সায়েন্স, প্রোগ্রামিং ও ডিজিটাল অণুপ্রেরণা, ডিজিটাল কমিউনিকেশন ও ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির মতো সফট স্কিল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভজি ওয়্যারলেস টেকনোলজির মতো বিষয়গুলোকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। সরকার এরইমধ্যে প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে কর্মমুখী করার কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকারত্ব দূরীকরণে বর্তমান সরকারইন্ডাস্ট্রিএকাডেমিয়া লিংকেজএবং ইন্টার্নশিপ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ঘটিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীনই বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এ ছাড়া ক্যাম্পাস থেকেই ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা তৈরি করতে সরকার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়াবাণিজ্যিকীকরণ করার জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সরকারসিড ফান্ডিংবাইনোভেশন গ্র্যান্টপ্রদান করবে। এর ফলে তরুণরা শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য শিক্ষকের জ্ঞান, দক্ষতা ও সততার ওপর নির্ভর করে। তাই শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সামনেরোল মডেলএবং সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে হবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি যত্নশীল হওয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দেশের যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিখতে পারলে দেশবিদেশে কোথাও চাকরির অভাব হবে না।পরিশেষে, একটি মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, নাগরিক সমাজ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরসবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।