ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় দেশগুলোয় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:১৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স) আরোপ করলে সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৭ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন ডিজিটাল কর আরোপের পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ খুব শিগগিরই তা কার্যকর করতে পারে।

 

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ এ ধরনের কর চালু করলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা তাদের সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি এ সিদ্ধান্ত বিদ্যমান যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও প্রাধান্য পাবে।

 

ট্রাম্প লিখেছেন, “যে কোনো দেশ এ ধরনের কর আরোপ করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।”o

তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত যেসব দেশ নতুন করে ডিজিটাল কর চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের উদ্দেশে দেওয়া হলেও ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে এ ধরনের কর কার্যকর রয়েছে। ফলে লন্ডনের ক্ষেত্রে এ ঘোষণার প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (ডিএসটি) চালু রয়েছে। বড় সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস—যাদের বৈশ্বিক ডিজিটাল ব্যবসা থেকে আয় ৫০ কোটি পাউন্ডের বেশি এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি, তাদের ওপর এ কর প্রযোজ্য।

 

এর আওতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজন। যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কর থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।

 

এর আগে গত এপ্রিলেও ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে কর আরোপ করায় যুক্তরাজ্যকে ‘বড় ধরনের শুল্কের’ মুখে পড়তে হবে।

 

সেসময় তিনি বলেছিলেন, “তারা সহজেই অর্থ কামাতে চায়। এ কারণেই তারা সবাই আমাদের দেশের সুযোগ নিয়েছে।”

 

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস বলেছিলেন, “চুক্তি লঙ্ঘিত হলে বা ইইউর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুত ও যথাযথ জবাব দিতে সক্ষম।”

 

বর্তমানে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স আরোপ করছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর চালু করেছে বা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে করনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ফাউন্ডেশন।

 

চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজনও এ ধরনের করের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ দেখিয়ে বিক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ফি বাড়িয়েছে।

 

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক আরোপের নীতি অনুসরণ করে আসছেন।

 

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাতিল করে দেয়।

 

এর পরও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপীয় দেশগুলোয় ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৮:১৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স) আরোপ করলে সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর সব ধরনের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৭ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নতুন ডিজিটাল কর আরোপের পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ খুব শিগগিরই তা কার্যকর করতে পারে।

 

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ এ ধরনের কর চালু করলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা তাদের সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি এ সিদ্ধান্ত বিদ্যমান যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও প্রাধান্য পাবে।

 

ট্রাম্প লিখেছেন, “যে কোনো দেশ এ ধরনের কর আরোপ করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব ধরনের পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।”o

তবে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মূলত যেসব দেশ নতুন করে ডিজিটাল কর চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের উদ্দেশে দেওয়া হলেও ২০২০ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে এ ধরনের কর কার্যকর রয়েছে। ফলে লন্ডনের ক্ষেত্রে এ ঘোষণার প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (ডিএসটি) চালু রয়েছে। বড় সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস—যাদের বৈশ্বিক ডিজিটাল ব্যবসা থেকে আয় ৫০ কোটি পাউন্ডের বেশি এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি, তাদের ওপর এ কর প্রযোজ্য।

 

এর আওতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজন। যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কর থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।

 

এর আগে গত এপ্রিলেও ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে কর আরোপ করায় যুক্তরাজ্যকে ‘বড় ধরনের শুল্কের’ মুখে পড়তে হবে।

 

সেসময় তিনি বলেছিলেন, “তারা সহজেই অর্থ কামাতে চায়। এ কারণেই তারা সবাই আমাদের দেশের সুযোগ নিয়েছে।”

 

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস বলেছিলেন, “চুক্তি লঙ্ঘিত হলে বা ইইউর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্রুত ও যথাযথ জবাব দিতে সক্ষম।”

 

বর্তমানে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স আরোপ করছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর চালু করেছে বা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে করনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ফাউন্ডেশন।

 

চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজনও এ ধরনের করের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ দেখিয়ে বিক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ফি বাড়িয়েছে।

 

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক আরোপের নীতি অনুসরণ করে আসছেন।

 

তবে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাতিল করে দেয়।

 

এর পরও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।