ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম  গ্যাস্ট্রিক-ক্যানসার বলে মিথ্যা অসুস্থতার সার্টিফিকেট দিয়েছেন কামরুল ইসলাম: চিফ প্রসিকিউটর মাদকের টাকার জন্য নিজের ঘরের টিনের বেড়া খুলে নিলেন যুবক পুরোনো ছবি দিয়ে অপপ্রচার, বাস্তবে ডুবে যায়নি চট্টগ্রাম: প্রতিমন্ত্রী টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭ হাজার একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষকরা তুরস্কে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি ক্বারীর বিশ্বজয় নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ৫১ মুসল্লিকে হত্যা: আদালতে আসামির আপিল খারিজ গণভোটের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াত অপরাধ স্বীকার না করা পর্যন্ত ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ থাকবে: জাহেদ উর রহমান

নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৬৪ বার পড়া হয়েছে

ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত দুই প্রার্থীর একজন আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তিনি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ঋণ পরিশোধ না করেই উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার গ্রহণ করেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন সিআইবি প্রতিবেদনে তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে উল্লেখ না করা হয়।

তবে গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করলে উচ্চ আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেওয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় একাধিক অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিত কাজী রফিক ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও মাত্র দুই দিন এলাকায় অবস্থান করে তিনি ফিরে যান। গত সতেরো বছরের বেশি সময় ধরে দলের নেতাকর্মীরা নিপীড়নের শিকার হলেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ব্যাংক লুট ও জমি দখলের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঋণ খেলাপি হওয়া, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং জমি দখলসহ নানা অভিযোগে প্রার্থী হিসেবে কাজী রফিকের পাশাপাশি দল হিসেবেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী ২৫ বছর গ্রীষ্মকালে হবে না পবিত্র হজ

নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্যতা হারালেন বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঋণ খেলাপি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারালেন বগুড়া-১ (সোনাতলা–সারিয়াকান্দি) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত দুই প্রার্থীর একজন আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। উচ্চ আদালতের এক রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি হিসেবে ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী তিনি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ঋণ পরিশোধ না করেই উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার গ্রহণ করেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন সিআইবি প্রতিবেদনে তাকে ঋণ খেলাপি হিসেবে উল্লেখ না করা হয়।

তবে গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করলে উচ্চ আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেওয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন।

এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় একাধিক অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এতে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

আদালতের সর্বশেষ রায়ের খবরে এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক-এগারোর পর বিএনপির দুর্দিনে ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিত কাজী রফিক ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও মাত্র দুই দিন এলাকায় অবস্থান করে তিনি ফিরে যান। গত সতেরো বছরের বেশি সময় ধরে দলের নেতাকর্মীরা নিপীড়নের শিকার হলেও তাকে পাশে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, ডেভেলপার ব্যবসার আড়ালে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ব্যাংক লুট ও জমি দখলের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গণমাধ্যমে তার ঋণ খেলাপির পরিমাণ ৭৬৫ কোটি টাকা বলা হলেও প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঋণ খেলাপি হওয়া, হলফনামায় অসঙ্গতি এবং জমি দখলসহ নানা অভিযোগে প্রার্থী হিসেবে কাজী রফিকের পাশাপাশি দল হিসেবেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। আদালতের রায়ে তাকে পুনরায় ঋণ খেলাপি ঘোষণা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা গেছে।