ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি বাক্‌স্বাধীনতা যেন বাক্ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে

টেবিলে লেখা স্বপ্ন বাস্তব হলো: ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ৭১৩ বার পড়া হয়েছে

ইনশাআল্লাহ, ৪৪ বিসিএসে আমি প্রশাসন ক্যাডার হব”—নিজের পড়ার টেবিলে এমন একটি বাক্য লিখে রেখেছিলেন মেহেদী হাসান। প্রতিদিন দেখতেন সেই বাক্য, নিজের ভেতর তৈরি করতেন অনুপ্রেরণা। অবশেষে সেটিই বাস্তবে রূপ নিল। ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের এই শিক্ষার্থীর প্রশাসন ক্যাডারে অবস্থান ১০২তম, আর এটি ছিল তার প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

মেহেদীর যাত্রা শুরু মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম থেকে। ২০১৪ সালে মাকহাটি জি.সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে ৯ম গ্রেডের সরকারি চাকরি পান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে, যেখানে তিনি এখন সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত (চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর)। এর দুই বছর পর, ২৬ বছর বয়সে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন।

ঢাকাপোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেহেদী বলেন,
“আমি গ্রামের ছেলে। লজিংয়ে থেকে, নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। তৃতীয় বর্ষ থেকেই প্রশাসন ক্যাডারের স্বপ্ন দেখি। আমার পড়ার টেবিলে লিখে রেখেছিলাম ‘ইনশাআল্লাহ, ৪৪ বিসিএসে আমি প্রশাসন ক্যাডার হব।’ প্রতিদিন চোখে পড়ত সেই বাক্য।”

তিনি আরও বলেন,
“টেবিলে লিখে রাখতাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্ম সচিব, সচিব— এগুলো দেখে নিজের ভেতর মোটিভেশন নিতাম।”

মেহেদীর মা ছিলেন তার বড় অনুপ্রেরণা। কিন্তু করোনা মহামারির সময় লিভার জটিলতায় তিনি মারা যান। আর পেছনে ছিলেন তার বাবা, একজন আলুচাষী কৃষক। মেহেদীর ভাষায়,
“অভাব-অনটনের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও আব্বা স্বশিক্ষিত। নিজে কষ্ট করেও আমাকে কাজে নামতে দেননি।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার

টেবিলে লেখা স্বপ্ন বাস্তব হলো: ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান

আপডেট সময় ১১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

ইনশাআল্লাহ, ৪৪ বিসিএসে আমি প্রশাসন ক্যাডার হব”—নিজের পড়ার টেবিলে এমন একটি বাক্য লিখে রেখেছিলেন মেহেদী হাসান। প্রতিদিন দেখতেন সেই বাক্য, নিজের ভেতর তৈরি করতেন অনুপ্রেরণা। অবশেষে সেটিই বাস্তবে রূপ নিল। ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের এই শিক্ষার্থীর প্রশাসন ক্যাডারে অবস্থান ১০২তম, আর এটি ছিল তার প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

মেহেদীর যাত্রা শুরু মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম থেকে। ২০১৪ সালে মাকহাটি জি.সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে সরকারি হরগঙ্গা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে ৯ম গ্রেডের সরকারি চাকরি পান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে, যেখানে তিনি এখন সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত (চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর)। এর দুই বছর পর, ২৬ বছর বয়সে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন।

ঢাকাপোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেহেদী বলেন,
“আমি গ্রামের ছেলে। লজিংয়ে থেকে, নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। তৃতীয় বর্ষ থেকেই প্রশাসন ক্যাডারের স্বপ্ন দেখি। আমার পড়ার টেবিলে লিখে রেখেছিলাম ‘ইনশাআল্লাহ, ৪৪ বিসিএসে আমি প্রশাসন ক্যাডার হব।’ প্রতিদিন চোখে পড়ত সেই বাক্য।”

তিনি আরও বলেন,
“টেবিলে লিখে রাখতাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার, যুগ্ম সচিব, সচিব— এগুলো দেখে নিজের ভেতর মোটিভেশন নিতাম।”

মেহেদীর মা ছিলেন তার বড় অনুপ্রেরণা। কিন্তু করোনা মহামারির সময় লিভার জটিলতায় তিনি মারা যান। আর পেছনে ছিলেন তার বাবা, একজন আলুচাষী কৃষক। মেহেদীর ভাষায়,
“অভাব-অনটনের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও আব্বা স্বশিক্ষিত। নিজে কষ্ট করেও আমাকে কাজে নামতে দেননি।”