যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই বুধবার লেবাননে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পরপরই ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক, কুয়েত ও কাতারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।
বুধবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন দূতাবাস হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইরাকে আমেরিকান স্বার্থ এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় ইরানের ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এদিকে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কয়েকটি স্থাপনা এবং পানি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে—এই অভিযোগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ফিনান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি, ডেমোক্র্যাটা।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















