ঢাকা , সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসাভাড়া দিতে দেরি করায় ভাড়াটিয়াকে ভেতরে রেখেই তালা দিলেন মালিক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • ৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

এবার এক মাসের বাসাভাড়া পরিশোধে তিন দিন দেরি হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের ঘরের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বাড়ির মালিক। মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) সুনামগঞ্জ পৌরশহরের রায়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক ইউসুফ চৌধুরীর এমন কাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইমন বর্মন পরিবার নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে ইউসূফ চৌধুরীর বাসায় ভাড়া থাকে থাকেন। বর্তমানে অসুস্থ মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। বাবা রামপ্রসাদ বর্মন আড়াই বছর আগে মারা যান। পরে সংসারের হাল ধরেন ইমন। পৌরশহরে বিভিন্ন এলাকায় ঝাল মুড়ি বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই বাসা ভাড়াসহ সংসারের খরচ চালায় সে। প্রতি মাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ৬ হাজার ৬০০ টাকা। চার বছর ধরেই ঠিক সময়ে বাসা ভাড়া দিয়ে আসছিল সে। চলতি মাসের পাঁচ তারিখে বাসা ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা না থাকায় দিতে পারেনি ইমন।

ভুক্তভোগী ইমনের পরিবারের অভিযোগ, ছয় জুলাই থেকেই বাসার গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেন বাসার মালিক ইউসুফ চৌধুরী। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তারা দেখতে পান দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। এতে পরিবারটি আতঙ্কে পড়ে যায়। ভুক্তভোগী ইমন বর্মন জানান, ‘ভাড়া পরিশোধে মাত্র তিন দিন দেরি হওয়ায় এমন অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছি আমরা। আমি জানালা দিয়ে চিৎকার করে আশপাশের মানুষদের ডাকি। পরে তারা এসে পুলিশে খবর দেয়।’

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসার মালিককে ডেকে তালা খুলে পরিবারটিকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অমানবিক ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। সামান্য ভাড়ার জন্য মানুষকে এভাবে আটকে রাখা সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।’

অন্য ভাড়াটিয়া স্বপন চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের সমস্যা হতেই পারে। মাত্র তিন দিন সময় পেরিয়েছে, তাই বলে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’ তবে অভিযুক্ত বাড়ির মালিক ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘আমি এক বছর আগে তাদের নোটিশ দিয়েছি বাসা ছাড়ার জন্য। বারবার বলার পরও বাসা ছাড়ছে না। সময়মতো বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দিতে হয়, তাই বাধ্য হয়ে তালা দিয়েছি।’ এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসাভাড়া দিতে দেরি করায় ভাড়াটিয়াকে ভেতরে রেখেই তালা দিলেন মালিক

আপডেট সময় ০২:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

এবার এক মাসের বাসাভাড়া পরিশোধে তিন দিন দেরি হওয়ায় ভাড়াটিয়াদের ঘরের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বাড়ির মালিক। মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) সুনামগঞ্জ পৌরশহরের রায়পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক ইউসুফ চৌধুরীর এমন কাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সর্বত্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইমন বর্মন পরিবার নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে ইউসূফ চৌধুরীর বাসায় ভাড়া থাকে থাকেন। বর্তমানে অসুস্থ মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন। বাবা রামপ্রসাদ বর্মন আড়াই বছর আগে মারা যান। পরে সংসারের হাল ধরেন ইমন। পৌরশহরে বিভিন্ন এলাকায় ঝাল মুড়ি বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই বাসা ভাড়াসহ সংসারের খরচ চালায় সে। প্রতি মাসে বাসা ভাড়া দিতে হয় ৬ হাজার ৬০০ টাকা। চার বছর ধরেই ঠিক সময়ে বাসা ভাড়া দিয়ে আসছিল সে। চলতি মাসের পাঁচ তারিখে বাসা ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা না থাকায় দিতে পারেনি ইমন।

ভুক্তভোগী ইমনের পরিবারের অভিযোগ, ছয় জুলাই থেকেই বাসার গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেন বাসার মালিক ইউসুফ চৌধুরী। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তারা দেখতে পান দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। এতে পরিবারটি আতঙ্কে পড়ে যায়। ভুক্তভোগী ইমন বর্মন জানান, ‘ভাড়া পরিশোধে মাত্র তিন দিন দেরি হওয়ায় এমন অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছি আমরা। আমি জানালা দিয়ে চিৎকার করে আশপাশের মানুষদের ডাকি। পরে তারা এসে পুলিশে খবর দেয়।’

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসার মালিককে ডেকে তালা খুলে পরিবারটিকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অমানবিক ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। সামান্য ভাড়ার জন্য মানুষকে এভাবে আটকে রাখা সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।’

অন্য ভাড়াটিয়া স্বপন চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানুষের সমস্যা হতেই পারে। মাত্র তিন দিন সময় পেরিয়েছে, তাই বলে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’ তবে অভিযুক্ত বাড়ির মালিক ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘আমি এক বছর আগে তাদের নোটিশ দিয়েছি বাসা ছাড়ার জন্য। বারবার বলার পরও বাসা ছাড়ছে না। সময়মতো বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দিতে হয়, তাই বাধ্য হয়ে তালা দিয়েছি।’ এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তারা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।