ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজওয়ানের পাগলাটে আউটের পর মিরপুরে বৃষ্টির দাপট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ রিজওয়ানের সেই পাগলাটে শটের পরপরই  বৃষ্টির হানা। তবে, এর আগে মাঠে নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায়। তাইজুল ইসলাম আক্রমণে আসতেই যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন রিজওয়ান। অনেকটা বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে বলটিকে আকাশে ভাসিয়ে দেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তখন আশেপাশে কোনো ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান তিনি।

তবে বেশি সময় টিকতে পারেননি। পরের বলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মিড অফে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে রিজওয়ানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মাহমুদুল হাসান জয়। এবারও তিনি অনেকটা এগিয়ে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে বল পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শটটি ঠিকভাবে টাইম করতে ব্যর্থ হন। এতে ভেঙে যায় ১৫৭ বলে গড়া ১১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

এরপরই যেন ম্যাচের ছন্দ থমকে যায়। হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি হলেও দ্রুতই আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম অন্ধকারে ঢেকে পড়ে, দুপুর যেন হঠাৎই সন্ধ্যায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।
খেলা থামার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৮৯ দশমিক ৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো হোম অব ক্রিকেটে বৃষ্টির দাপট চলছে। প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা আজ আর খেলা মাঠে গড়াবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা জেগেছে।

রবিবার (১০ মে) তৃতীয় দিনের শুরুতেও আগের দিনের দাপট জিইয়ে রেখেছিল সফরকারীরা। এতে সেঞ্চুরির জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আজান আওয়াইসের। ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটার পঞ্চম ওভারেই পৌঁছে যান তিন অঙ্কের মাইলফলকে। নাহিদ রানার করা ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ১৫৩ বলে সাজানো এই দারুণ ইনিংসে ছিল ১৪টি চারের মার।

তবে প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টার শেষদিকে পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। এই পেসারের শিকার বনে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন আওয়াইস।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। মাত্র ৯ রান করে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সৌদ শাকিলকে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন এই ব্যাটার।

এরপরে মিরাজের হাত ধরে উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ ফজল থেকেও ‘মুক্তি’ পায় স্বাগতিকরা। মিরাজের বল মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ত্রিশ গজের ভেতরে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দেন ফজল। অভিষেকে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান ফেরেন ১২০ বলে ৬০ রান করে।

এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। একবার তাসকিন আহমেদের বলে আউট হলেও নো বলের কারণে জীবন পান সালমান। এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়ে লাঞ্চ পর্যন্ত খেলেছে পাকিস্তান।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রিজওয়ানের পাগলাটে আউটের পর মিরপুরে বৃষ্টির দাপট

আপডেট সময় ০২:৫২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মোহাম্মদ রিজওয়ানের সেই পাগলাটে শটের পরপরই  বৃষ্টির হানা। তবে, এর আগে মাঠে নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায়। তাইজুল ইসলাম আক্রমণে আসতেই যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন রিজওয়ান। অনেকটা বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে বলটিকে আকাশে ভাসিয়ে দেন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে তখন আশেপাশে কোনো ফিল্ডার না থাকায় বেঁচে যান তিনি।

তবে বেশি সময় টিকতে পারেননি। পরের বলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মিড অফে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে রিজওয়ানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মাহমুদুল হাসান জয়। এবারও তিনি অনেকটা এগিয়ে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে বল পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শটটি ঠিকভাবে টাইম করতে ব্যর্থ হন। এতে ভেঙে যায় ১৫৭ বলে গড়া ১১৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

এরপরই যেন ম্যাচের ছন্দ থমকে যায়। হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি হলেও দ্রুতই আকাশ ভারী কালো মেঘে ঢেকে যায়, আর পুরো মিরপুর স্টেডিয়াম অন্ধকারে ঢেকে পড়ে, দুপুর যেন হঠাৎই সন্ধ্যায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।
খেলা থামার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৮৯ দশমিক ৪ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান

 

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো হোম অব ক্রিকেটে বৃষ্টির দাপট চলছে। প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা আজ আর খেলা মাঠে গড়াবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা জেগেছে।

রবিবার (১০ মে) তৃতীয় দিনের শুরুতেও আগের দিনের দাপট জিইয়ে রেখেছিল সফরকারীরা। এতে সেঞ্চুরির জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আজান আওয়াইসের। ৮৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা এই বাঁহাতি ব্যাটার পঞ্চম ওভারেই পৌঁছে যান তিন অঙ্কের মাইলফলকে। নাহিদ রানার করা ৫১তম ওভারের পঞ্চম বলে এক রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ১৫৩ বলে সাজানো এই দারুণ ইনিংসে ছিল ১৪টি চারের মার।

তবে প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টার শেষদিকে পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। এই পেসারের শিকার বনে ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন আওয়াইস।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। মাত্র ৯ রান করে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সৌদ শাকিলকে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন এই ব্যাটার।

এরপরে মিরাজের হাত ধরে উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ ফজল থেকেও ‘মুক্তি’ পায় স্বাগতিকরা। মিরাজের বল মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ত্রিশ গজের ভেতরে তাইজুলের হাতে ক্যাচ দেন ফজল। অভিষেকে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান ফেরেন ১২০ বলে ৬০ রান করে।

এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। একবার তাসকিন আহমেদের বলে আউট হলেও নো বলের কারণে জীবন পান সালমান। এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়ে লাঞ্চ পর্যন্ত খেলেছে পাকিস্তান।