ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোনে মার্কিন নৌবহরকে সতর্কবার্তা দিল ইরান লালমনিরহাটের তিন সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি-জনতার বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

নয়াদিল্লি ও ঢাকা সম্পর্ক শূন্য থেকে শুরু করছে না, স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

এবার নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না; বরং এমন এক সম্পর্কের স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে, যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন নদী, অভিন্ন সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনীতিও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দেখছেনধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেএই ধারণার আলোকে।

এর একটি প্রতিফলন দেখা যায় ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে। সেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত সরাসরি পরিবেশন করা হয়যা দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। খলিলুর রহমানের ভাষায়, এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লির পরিবেশে তিনি এক ধরনেরসম্মিলনলক্ষ্য করেছেন। সেখানে দুই দেশইআলোচনা, সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ নিতে আগ্রহীতিনি জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখন তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে আস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করেএটি হবে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ অনুভব করছে। খলিলুর রহমান বলেন, ‘সংকটের সময় ঢাকা যখন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন ভারত দ্রুত সাড়া দেয়।তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি পাইপলাইন আছে এবং ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি তিনি দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মরিশাসে একটি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় এনডিটিভিকে এই সাক্ষাৎকার দেন। খলিলুর রহমান জানান, মরিশাসে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর সরবরাহ বাড়ানো হবে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তি এ বছর পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টন ব্যবস্থা একটিসভ্যতাগত বন্ধন

তিনি বলেন, ‘পানি সীমিত। গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশেই জীবিকা নির্ভর করে অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নয়াদিল্লিতে তিনি যেআগ্রহ ও সদিচ্ছাদেখেছেন, তা একটি শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ নেবে। তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ সম্পদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন আগামী অন্তত তিন দশকের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।খলিলুর রহমান বলেন, ‘মানুষ তো মানুষইভারত হোক বা বাংলাদেশ। আমরা একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি।তিনি মানুষেমানুষে যোগাযোগ এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সম্প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জের পর সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে জিরোসাম গেম হিসেবে দেখে না এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে।তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো সমস্যা নয়।বাণিজ্য ঘাটতি বাজারের প্রভাবেই তৈরি হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, সীমান্ত পারাপার সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামোএসবের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।তার মতে, ভারত কোনো বাহ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটিকাঠামোগত উপস্থিতি’-যা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী

নয়াদিল্লি ও ঢাকা সম্পর্ক শূন্য থেকে শুরু করছে না, স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

এবার নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না; বরং এমন এক সম্পর্কের স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে, যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন নদী, অভিন্ন সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনীতিও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দেখছেনধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবেএই ধারণার আলোকে।

এর একটি প্রতিফলন দেখা যায় ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে। সেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত সরাসরি পরিবেশন করা হয়যা দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে। খলিলুর রহমানের ভাষায়, এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লির পরিবেশে তিনি এক ধরনেরসম্মিলনলক্ষ্য করেছেন। সেখানে দুই দেশইআলোচনা, সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ নিতে আগ্রহীতিনি জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখন তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে আস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করেএটি হবে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ অনুভব করছে। খলিলুর রহমান বলেন, ‘সংকটের সময় ঢাকা যখন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন ভারত দ্রুত সাড়া দেয়।তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি পাইপলাইন আছে এবং ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি তিনি দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মরিশাসে একটি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় এনডিটিভিকে এই সাক্ষাৎকার দেন। খলিলুর রহমান জানান, মরিশাসে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর সরবরাহ বাড়ানো হবে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তি এ বছর পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টন ব্যবস্থা একটিসভ্যতাগত বন্ধন

তিনি বলেন, ‘পানি সীমিত। গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশেই জীবিকা নির্ভর করে অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নয়াদিল্লিতে তিনি যেআগ্রহ ও সদিচ্ছাদেখেছেন, তা একটি শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ নেবে। তিনি আরও বলেন, ‘যৌথ সম্পদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন আগামী অন্তত তিন দশকের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।খলিলুর রহমান বলেন, ‘মানুষ তো মানুষইভারত হোক বা বাংলাদেশ। আমরা একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি।তিনি মানুষেমানুষে যোগাযোগ এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সম্প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জের পর সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে জিরোসাম গেম হিসেবে দেখে না এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে।তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো সমস্যা নয়।বাণিজ্য ঘাটতি বাজারের প্রভাবেই তৈরি হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সবশেষে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, সীমান্ত পারাপার সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামোএসবের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।তার মতে, ভারত কোনো বাহ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটিকাঠামোগত উপস্থিতি’-যা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।