সিরিয়ায় ২০১১ সালে বিপ্লব শুরুর পর থেকে ৩ হাজার ২০০ ঘণ্টার বেশি বিমান অভিযানে অংশ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আমলের গ্রেপ্তার করা নয় সামরিক পাইলটের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের বরাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
এর একদিন আগে পশ্চিমাঞ্চলীয় লাতাকিয়া প্রদেশে ওই নয় পাইলটকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয় সিরীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে ‘সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পাইলটেরা বিভিন্ন ধরনের সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে এমআই-২৪ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, সু-২২ যুদ্ধবিমান, মিগ-২৯ ও মিগ-২১ উল্লেখযোগ্য।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, তাদের চালানো হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দামেস্কের উপকণ্ঠের পূর্ব গৌতা, আলেপ্পো ও এর উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চলের দেইর এজ-জোর ও আশপাশের এলাকা এবং মধ্য সিরিয়ার হামা অঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও এলাকা। সূত্রটি জানায়, তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা, বিপ্লবীদের অবস্থান, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বোমাবর্ষণ, পাশাপাশি কাছ থেকে বিমান সহায়তা দেয়া, নজরদারি এবং লক্ষ্য শনাক্ত করা।
এ ছাড়া হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক অস্ত্রসামগ্রী সংযুক্ত করা এবং উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করাও তাদের দায়িত্বের অংশ ছিল। লাতাকিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ডার আব্দুল আজিজ আল-আহমাদ জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসবিরোধী শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত একাধিক নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে ওই পাইলটদের গ্রেপ্তার করা হয়। নজরদারি, অনুসরণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তদন্তের পর তাদের আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আল-আহমাদ বলেন, তদন্ত ও পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আটক পাইলটেরা সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধ ও লঙ্ঘনে অংশ নিয়েছিলেন। এ জন্য তারা যুদ্ধ ও হেলিকপ্টার পরিচালনায় নিজেদের সামরিক পদ ও দক্ষতা ব্যবহার করেছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের অংশ নেয়া অভিযানের মধ্যে এমন বোমাবর্ষণ ও হামলাও ছিল, যাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হন। এসব হামলায় শহর ও জনপদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বাড়িঘর, স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়।
গ্রেপ্তার করা পাইলটরা হলেন- মেজর জেনারেল মানহাল আনোয়ার সালেহ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সামি ইব্রাহিম মাহমুদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গিয়াস আলি আল-রাহিয়া, কর্নেল ইসা ইজ্জুদ্দিন খাদুর, কর্নেল মারওয়ান সালাহ নাফেশ, কর্নেল বাশার সামির ওয়ান্নুস, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আইহাম হামজা আলিয়া, ক্যাপ্টেন আইহাম আহমেদ দাউদ এবং ক্যাপ্টেন আম্মার ইসা জুনায়েদি।
আল-আহমাদ জানান, সিরীয়দের বিরুদ্ধে অপরাধে যারা দায়ী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের খুঁজে বের করা এবং অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া বিপ্লবের সময় বেসামরিকদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সিরীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বিরোধী বাহিনী দামেস্কে প্রবেশ করে আসাদ সরকারকে উৎখাত করার আগে পর্যন্ত এই সংঘাত চলেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















