ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমা পেয়ে কাজে যোগ দিলেন স্বাস্থ্যের ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৭৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে আগের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারির মাধ্যমে তাকে ফেরানো হয়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “এই আদেশ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।” গত ৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্বাস্থ্যের ডিজি আবু জাফর। সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এ সময় হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গিয়ে ডিজি কক্ষের ভেতরে টেবিল থাকার কারণ জানতে চান চিকিৎসকদের কাছে। তবে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ধনদেব চন্দ্র বর্মণ তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করায় ধনদেব বর্মণকে শোকজ করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়।

ধনদেব চন্দ্র বর্মণক শোকজের ‘সন্তোষজনক’ জবাব দেওয়ায় তাকে আগের দায়িত্বে বহাল রাখার আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালীন সময়ে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (ক্যাজুয়ালটি) ও সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী) ইনসিটু ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ মহাপরিচালকের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্বপূর্ণ’’ ও ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি তার ‘অনাকাঙ্খিত’ আচরণের কারণে ক্ষমা চেয়ে এবং ভবিষ্যতে এরূপ অনাকাঙ্খিত আচরণ করবেন না বলে অঙ্গীকার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করেন। পরে তার দাখিল করা জবাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। বুধবারে আদেশে বলা হয়, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় বরাবরে প্রেরিত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় মহাপরিচালকের উদারতা ও মহানুভবতায় ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং তাকে পূর্বের কর্মস্থল ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জ পদে পুনর্বহাল রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক তাকে ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জের দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হলো।”

ধনদেব চন্দ্র বর্মণ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “কর্তৃপক্ষ আমাকে পূর্বের পদে বহাল করেছেন। আমি কাজ শুরু করেছি। সংবাদের মাধ্যমে পজিটিভ তথ্য আসলে সকলেই উপকৃত হই। আমরা সে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমা পেয়ে কাজে যোগ দিলেন স্বাস্থ্যের ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণ

আপডেট সময় ০১:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে আগের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারির মাধ্যমে তাকে ফেরানো হয়।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “এই আদেশ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।” গত ৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্বাস্থ্যের ডিজি আবু জাফর। সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এ সময় হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গিয়ে ডিজি কক্ষের ভেতরে টেবিল থাকার কারণ জানতে চান চিকিৎসকদের কাছে। তবে জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ধনদেব চন্দ্র বর্মণ তার সঙ্গে তর্কে জড়ান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘অসদাচরণ’ করায় ধনদেব বর্মণকে শোকজ করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়।

ধনদেব চন্দ্র বর্মণক শোকজের ‘সন্তোষজনক’ জবাব দেওয়ায় তাকে আগের দায়িত্বে বহাল রাখার আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, গত ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালীন সময়ে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (ক্যাজুয়ালটি) ও সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী) ইনসিটু ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ মহাপরিচালকের সঙ্গে ‘ঔদ্ধত্বপূর্ণ’’ ও ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি তার ‘অনাকাঙ্খিত’ আচরণের কারণে ক্ষমা চেয়ে এবং ভবিষ্যতে এরূপ অনাকাঙ্খিত আচরণ করবেন না বলে অঙ্গীকার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করেন। পরে তার দাখিল করা জবাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। বুধবারে আদেশে বলা হয়, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় বরাবরে প্রেরিত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় মহাপরিচালকের উদারতা ও মহানুভবতায় ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং তাকে পূর্বের কর্মস্থল ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জ পদে পুনর্বহাল রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক তাকে ক্যাজুয়ালটি ওটি ইনচার্জের দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হলো।”

ধনদেব চন্দ্র বর্মণ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “কর্তৃপক্ষ আমাকে পূর্বের পদে বহাল করেছেন। আমি কাজ শুরু করেছি। সংবাদের মাধ্যমে পজিটিভ তথ্য আসলে সকলেই উপকৃত হই। আমরা সে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।”