ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মক্কায় হামলা নিয়ে জুমার খুতবায় মসজিদুল হারাম ও নববীর ইমাম বললেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ’ রংপুরে প্রস্তুত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের মূল মঞ্চ গণভোটের রায় কার্যকর করেই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে: মামুনুল হক পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩১ দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক অনুষ্ঠিত জামায়াতের ৬ দফা কীভাবে ৮ দফা হলো জাতি জানে না: রাশেদ খাঁন ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির এ সরকার বিএনপির সরকার না, হাসিনার সরকার: অলি আহমেদ পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের অপেক্ষায় দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে দেখা যেতে পারে আধুনিক এই গণপরিবহন। প্রথম ধাপে নামানো হবে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস। এর মধ্যে ৫০টি থাকবে নারীদের জন্য নির্ধারিত।

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা আর জরাজীর্ণ বাসের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরিস্থিতি বদলাতে এর আগেও ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার নতুন করে উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস সংগ্রহ করা হবে। একই সময়ের মধ্যে বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি চালক ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত প্রক্রিয়ায় নতুন বাস আনতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত বাস পেতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে ইলেকট্রিক বাস দেখা যাবে।

এদিকে, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এবার কোনো বাধা নেই বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই রুটে একাধিক মালিকানার বাস পরিচালনার পরিবর্তে কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জরাজীর্ণ বাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাসকে আর ফিটনেস দেওয়া হবে না।

তবে মাত্র তিন মাসের মধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, ডিপো ও চার্জিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, শুধু বাস কিনলেই হবে না, এর সঙ্গে পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করতে হবে। চালক, টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।

তার মতে, বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ইলেকট্রিক বাসের সমন্বয় না হলে বাস কেনা ও পরিচালনা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এলোপাতাড়ি ও বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ককে শৃঙ্খলার মধ্যে না আনলে শুধু ইলেকট্রিক বাস চালু করে গণপরিবহনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কায় হামলা নিয়ে জুমার খুতবায় মসজিদুল হারাম ও নববীর ইমাম বললেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ’

বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের অপেক্ষায় দেশ

আপডেট সময় ১২:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে দেখা যেতে পারে আধুনিক এই গণপরিবহন। প্রথম ধাপে নামানো হবে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস। এর মধ্যে ৫০টি থাকবে নারীদের জন্য নির্ধারিত।

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা আর জরাজীর্ণ বাসের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। পরিস্থিতি বদলাতে এর আগেও ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার নতুন করে উদ্যোগটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস সংগ্রহ করা হবে। একই সময়ের মধ্যে বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি চালক ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত প্রক্রিয়ায় নতুন বাস আনতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত বাস পেতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার সড়কে ইলেকট্রিক বাস দেখা যাবে।

এদিকে, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এবার কোনো বাধা নেই বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। একই রুটে একাধিক মালিকানার বাস পরিচালনার পরিবর্তে কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জরাজীর্ণ বাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাসকে আর ফিটনেস দেওয়া হবে না।

তবে মাত্র তিন মাসের মধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, ডিপো ও চার্জিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, শুধু বাস কিনলেই হবে না, এর সঙ্গে পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করতে হবে। চালক, টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।

তার মতে, বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ইলেকট্রিক বাসের সমন্বয় না হলে বাস কেনা ও পরিচালনা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার এলোপাতাড়ি ও বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ককে শৃঙ্খলার মধ্যে না আনলে শুধু ইলেকট্রিক বাস চালু করে গণপরিবহনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন হবে।