ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মক্কায় হামলা নিয়ে জুমার খুতবায় মসজিদুল হারাম ও নববীর ইমাম বললেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ’ রংপুরে প্রস্তুত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের মূল মঞ্চ গণভোটের রায় কার্যকর করেই সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে: মামুনুল হক পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩১ দিল্লিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক অনুষ্ঠিত জামায়াতের ৬ দফা কীভাবে ৮ দফা হলো জাতি জানে না: রাশেদ খাঁন ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কের বিলে সই করলেন ট্রাম্প বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির এ সরকার বিএনপির সরকার না, হাসিনার সরকার: অলি আহমেদ পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার তাকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচিত হলে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি।

১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে হন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এরপর ২০১৬ সালের বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন এবং টানা সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার কারাবরণও করেন তিনি।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হলেও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

বিএনপি নেতাদের মতে, দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময়ে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দলকে সংগঠিত রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় দীর্ঘদিন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও দলের নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও দুই কন্যাকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের পরিবার। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব—বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার সেই দীর্ঘ পথচলার গন্তব্য দেশের রাষ্ট্রপতি পদ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কায় হামলা নিয়ে জুমার খুতবায় মসজিদুল হারাম ও নববীর ইমাম বললেন, ‘এটি গুরুতর অপরাধ’

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৬:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার তাকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচিত হলে ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়েন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।

শিক্ষাজীবন শেষে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি।

১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। পরে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে হন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এরপর ২০১৬ সালের বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন এবং টানা সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার কারাবরণও করেন তিনি।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হলেও নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

বিএনপি নেতাদের মতে, দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময়ে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দলকে সংগঠিত রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনায় দীর্ঘদিন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও দলের নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও দুই কন্যাকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের পরিবার। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব—বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার সেই দীর্ঘ পথচলার গন্তব্য দেশের রাষ্ট্রপতি পদ।