ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মাদরাসার সবাই অকৃতকার্য, অধ্যক্ষ বললেন- ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসার চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

আর এ ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা আরও চমকপ্রদ। তার দাবি, ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওই মাদরাসা থেকে পাঁচজন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাদরাসাটিতে শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রায় তিন গুণ।

এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, চলতি বছর পাঁচজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই ফেল করেছে। শিক্ষক পদে ১৪ জন কর্মরত থাকার কথাও জানান তিনি।

তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভালো ফল করা ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা প্রশাসন। কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসাটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও এমন ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—১৪ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করার পেছনে আসল কারণ কী? তদন্তেই মিলবে এর উত্তর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ

মাদরাসার সবাই অকৃতকার্য, অধ্যক্ষ বললেন- ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে

আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসার চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

আর এ ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা আরও চমকপ্রদ। তার দাবি, ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওই মাদরাসা থেকে পাঁচজন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাদরাসাটিতে শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রায় তিন গুণ।

এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, চলতি বছর পাঁচজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই ফেল করেছে। শিক্ষক পদে ১৪ জন কর্মরত থাকার কথাও জানান তিনি।

তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভালো ফল করা ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা প্রশাসন। কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসাটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও এমন ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—১৪ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করার পেছনে আসল কারণ কী? তদন্তেই মিলবে এর উত্তর।