ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাগেরহাটে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো একটি মাছ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই রূপ নিল বিষাদে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ, জানালেন ২ কারণ মাদরাসার সবাই অকৃতকার্য, অধ্যক্ষ বললেন- ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ‘শতাধিক নারী’ থেকে টাকা নেন মহিলা দলের নেত্রী কাবা শরীফে দিকে তাকিয়ে আল্লাহু আকবর বলার পরই মৃত্যু পলক যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না: অভিযোগ আইনজীবীর লেবানন নিয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনার বিরো/ধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

মাদরাসার সবাই অকৃতকার্য, অধ্যক্ষ বললেন- ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসার চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

আর এ ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা আরও চমকপ্রদ। তার দাবি, ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওই মাদরাসা থেকে পাঁচজন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাদরাসাটিতে শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রায় তিন গুণ।

এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, চলতি বছর পাঁচজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই ফেল করেছে। শিক্ষক পদে ১৪ জন কর্মরত থাকার কথাও জানান তিনি।

তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভালো ফল করা ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা প্রশাসন। কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসাটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও এমন ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—১৪ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করার পেছনে আসল কারণ কী? তদন্তেই মিলবে এর উত্তর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো একটি মাছ

মাদরাসার সবাই অকৃতকার্য, অধ্যক্ষ বললেন- ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে

আপডেট সময় ০৪:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসার চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

আর এ ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ব্যাখ্যা আরও চমকপ্রদ। তার দাবি, ভালো ফল করা মেধাবী ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবারের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ওই মাদরাসা থেকে পাঁচজন ছাত্রী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

তবে ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাদরাসাটিতে শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রায় তিন গুণ।

এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, চলতি বছর পাঁচজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাই ফেল করেছে। শিক্ষক পদে ১৪ জন কর্মরত থাকার কথাও জানান তিনি।

তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভালো ফল করা ছাত্রীদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা প্রশাসন। কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, ফলাফল নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসাটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও এমন ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—১৪ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করার পেছনে আসল কারণ কী? তদন্তেই মিলবে এর উত্তর।