ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ঘরের বাজার’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খালিদুজ্জামানের কর্মকাণ্ডকে ‘তৃতীয় শ্রেণির সস্তা রাজনীতি’ বললেন মির্জা গালিব মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে জামায়াত নেতা, শ্বশুরের চিৎকারে ধরা কিছু মনে করবেন না বলে, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে যা বললেন ওমর সানী দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী বাগেরহাটে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো একটি মাছ

মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ছেলে সালমান শাহর কথা উঠলেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে মা নীলা চৌধুরীর। কখনো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান, আবার কখনো চোখের পানি সামলে কান্না চেপে রাখেন। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও প্রিয় ছেলেকে হারানোর শোক আর মৃত্যুরহস্যের উত্তর খুঁজে ফেরার আকুতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ মারা যান। এর আগের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল তার। সেদিন ছেলেকে সিলেটে দাদাবাড়িতে গিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন নীলা চৌধুরী।

তবে কাজের প্রতি দায়িত্বশীল সালমান তখন মাকে বলেছিলেন, ‘এত মানুষের লগ্নি আমার কাছে। বিশ্রাম তো দূরে থাক, আমার মরারও সময় নেই আম্মা।’ একই সঙ্গে মাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে এক মাসের ছুটির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সেই শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে নীলা চৌধুরীর প্রশ্ন, মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে যে ছেলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছিল, সে পরদিন আত্মহত্যা করেছে—এটা কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?

মায়ের সঙ্গে সেই ভ্রমণের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সালমানের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ডুবে যান নীলা চৌধুরী। সময়ের সঙ্গে শোক কিছুটা কমার বদলে অনেক ক্ষেত্রে আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।

মা-ছেলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সালমান তার কাজ, বন্ধু কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, ছেলের মানসিক অবস্থার পরিবর্তনও তিনি সহজেই বুঝতে পারতেন।

সালমানের ব্যক্তিত্বের কথাও স্মরণ করেন তার মা। তার দাবি, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও সালমান ছিলেন বিনয়ী ও সংবেদনশীল। শুটিং সেটে প্রধান শিল্পী থেকে শুরু করে এক্সট্রা শিল্পী—সবার সঙ্গে সমান আচরণ করতেন। অসচ্ছল অনেক মানুষকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি কাজের সুযোগও করে দিতেন।

ছেলের স্মৃতি হিসেবে সালমানের ব্যবহৃত একটি চার ভরি ওজনের সোনার চেইন এখনো নিজের কাছে রেখেছেন নীলা চৌধুরী। তার কাছে এই অলংকারই যেন ছেলে ‘ইমন’-এর স্মৃতির অন্যতম শেষ নিদর্শন।

সালমানের মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তার মায়ের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল? সম্প্রতি মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হক, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

সম্প্রতি মামলার আসামি ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর নীলা চৌধুরীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তার দাবি, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

মায়ের একটাই আকুতি—জীবনের শেষ সময়ে এসে হলেও যেন ছেলে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ঘরের বাজার’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ

আপডেট সময় ০৬:২৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ছেলে সালমান শাহর কথা উঠলেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে মা নীলা চৌধুরীর। কখনো স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান, আবার কখনো চোখের পানি সামলে কান্না চেপে রাখেন। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও প্রিয় ছেলেকে হারানোর শোক আর মৃত্যুরহস্যের উত্তর খুঁজে ফেরার আকুতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ মারা যান। এর আগের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল তার। সেদিন ছেলেকে সিলেটে দাদাবাড়িতে গিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন নীলা চৌধুরী।

তবে কাজের প্রতি দায়িত্বশীল সালমান তখন মাকে বলেছিলেন, ‘এত মানুষের লগ্নি আমার কাছে। বিশ্রাম তো দূরে থাক, আমার মরারও সময় নেই আম্মা।’ একই সঙ্গে মাকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে এক মাসের ছুটির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সেই শেষ কথোপকথনের স্মৃতি মনে করে নীলা চৌধুরীর প্রশ্ন, মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে যে ছেলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছিল, সে পরদিন আত্মহত্যা করেছে—এটা কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?

মায়ের সঙ্গে সেই ভ্রমণের পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সালমানের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ডুবে যান নীলা চৌধুরী। সময়ের সঙ্গে শোক কিছুটা কমার বদলে অনেক ক্ষেত্রে আরও তীব্র হয়েছে বলে জানান তিনি।

মা-ছেলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সালমান তার কাজ, বন্ধু কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। নীলা চৌধুরীর ভাষ্য, ছেলের মানসিক অবস্থার পরিবর্তনও তিনি সহজেই বুঝতে পারতেন।

সালমানের ব্যক্তিত্বের কথাও স্মরণ করেন তার মা। তার দাবি, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও সালমান ছিলেন বিনয়ী ও সংবেদনশীল। শুটিং সেটে প্রধান শিল্পী থেকে শুরু করে এক্সট্রা শিল্পী—সবার সঙ্গে সমান আচরণ করতেন। অসচ্ছল অনেক মানুষকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি কাজের সুযোগও করে দিতেন।

ছেলের স্মৃতি হিসেবে সালমানের ব্যবহৃত একটি চার ভরি ওজনের সোনার চেইন এখনো নিজের কাছে রেখেছেন নীলা চৌধুরী। তার কাছে এই অলংকারই যেন ছেলে ‘ইমন’-এর স্মৃতির অন্যতম শেষ নিদর্শন।

সালমানের মৃত্যুর ২৯ বছর পরও তার মায়ের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল? সম্প্রতি মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হক, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

সম্প্রতি মামলার আসামি ডন হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর নীলা চৌধুরীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তার দাবি, মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

মায়ের একটাই আকুতি—জীবনের শেষ সময়ে এসে হলেও যেন ছেলে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন তিনি।