নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। এরপর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থামেনি।
সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকের নামও। তবে এসব বিষয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবিও রয়েছে।
১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট ভালোবেসে সামিরাকে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ। কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবনের পর তার আকস্মিক মৃত্যু দুজনের জীবনেই তৈরি করে গভীর শোকের অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে সামিরাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
এর মধ্যে অভিনেতা ডনের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ একটি ছবি ভাইরাল হলে দাবি করা হয়, ছবির নারী সামিরা। তবে পরে এ দাবি নাকচ করেন সালমান শাহ ও সামিরার বন্ধু মোস্তাক ওয়াইজ।
মোস্তাকের দাবি, ছবির নারী সামিরা নন; তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা। ‘আশা ভালোবাসা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় ছবিটি তোলা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের সময় দুষ্টুমি করে ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে ছবিটি তুলেছিলেন সালমান শাহ। পরে ছবিটি নিয়ে ডনের সঙ্গে মজা করতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মোস্তাক আরও জানান, ডনের সঙ্গে সামিরার আলাদা একটি ছবিও রয়েছে। তবে সেটি তোলার পেছনেও ভিন্ন ঘটনা ছিল। তার দাবি, সামিরা ম্যাগাজিন পড়ার সময় সালমান শাহ ছবি তুলছিলেন। সে সময় ডন হাত বাড়িয়ে দিলে সামিরার সঙ্গে একটি ছবি তোলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ছবি সম্পাদিত বলেও দাবি করেছিলেন মোস্তাক ওয়াইজ। তার ভাষ্য, বেশিরভাগ ছবিই ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ভাইরাল ছবি নিয়ে নিজের অবস্থানও জানিয়েছিলেন সামিরা। তিনি দাবি করেছিলেন, তার একটি ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং না জেনে সালমানের ভক্তরা তাকে অপবাদ দিচ্ছেন। ডনকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করতেন বলেও জানিয়েছিলেন সামিরা।
তবে সালমান শাহর মৃত্যু, তার দাম্পত্য জীবন এবং ভাইরাল ছবিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আলোচনা-সমালোচনার কোনো শেষ হয়নি। আর এসব বিতর্কের মাঝেও বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহ আজও রয়ে গেছেন এক অমর নাম হিসেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























