ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোল, নববধূকে রেখে আবার কারাগারে ফিরলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বর ‘এই বয়সে এসে বিয়ের তাগিদও অনুভব করি না’, কেন বললেন রাইমা সেন? নাটোরে শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে যখন যে সরকারে থাকে, আইসাই বলে আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো: জামায়াত আমির ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসি রিমান্ডে আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ১৫ হাজার টাকার দলিলে ২ লাখ টাকা ঘুষ, এরপর কমিশনও ২০ হাজার

মাত্র ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ ১৩ বছরের মুসাইব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে অনন্য কৃতিত্ব স্থাপন করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোর মুসাইব হোসাইন। সে উপজেলার উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। দ্রুততম সময়ে পুরো কোরআন মুখস্থ করার এই বিরল সাফল্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

হাফেজ মুসাইব হোসাইন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে। মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুসাইব ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। সে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত, তখন উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে পুরস্কৃত হয়েছিল। পরে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, ভর্তির পর থেকেই কোরআন মুখস্থ করার প্রতি মুসাইবের প্রবল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। সে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত শ্রম ও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে সে দিনে পুরো এক পারা কোরআনও মুখস্থ করে শিক্ষকদের শুনিয়েছে। তার এই অদম্য চেষ্টা ও মেধার স্বাক্ষর হিসেবেই মাত্র ৭৩ দিনে ৩০ পারা কোরআন হিফজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। মুসাইবের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা মিজানুর রহমান বেপারী। তিনি বলেন, ছেলের মেধা আল্লাহ প্রদত্ত। সেই মেধাকে দ্বীনের পথে কাজে লাগানোর জন্যই তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। মাত্র ৭৩ দিনে হাফেজ হওয়ায় তিনি আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ছেলের জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। মুসাইব হোসাইন জানায়, সবার দোয়ায় সে এই গৌরব অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আলেম হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।

মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক জানান, অল্প সময়ে কোরআন হিফজ করার খবর দেশ–বিদেশের বিভিন্ন স্থানে শোনা গেলেও, এই মাদ্রাসায় এমন সাফল্য এবারই প্রথম। তিনি বলেন, ‘অন্যরা যখন খেলাধুলা করত, মুসাইব তখন নিভৃতে কোরআন পাঠে মগ্ন থাকত। রাতেও অন্যদের চেয়ে বেশি সময় সে অধ্যবসায় করত। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ রহমত।’ উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসাটি এর আগেও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। মুসাইবের এই অর্জন মাদ্রাসার মুকুটে নতুন এক পালক যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াকআউট না করে নেতানিয়াহুর বক্তব্য শুনেছে যে দুই মুসলিম দেশ

মাত্র ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ ১৩ বছরের মুসাইব

আপডেট সময় ১০:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

এবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাত্র ৭৩ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে অনন্য কৃতিত্ব স্থাপন করেছে ১৩ বছর বয়সী কিশোর মুসাইব হোসাইন। সে উপজেলার উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। দ্রুততম সময়ে পুরো কোরআন মুখস্থ করার এই বিরল সাফল্যে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

হাফেজ মুসাইব হোসাইন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে। মাদ্রাসা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মুসাইব ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। সে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত, তখন উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে পুরস্কৃত হয়েছিল। পরে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, ভর্তির পর থেকেই কোরআন মুখস্থ করার প্রতি মুসাইবের প্রবল আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। সে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও অতিরিক্ত শ্রম ও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে সে দিনে পুরো এক পারা কোরআনও মুখস্থ করে শিক্ষকদের শুনিয়েছে। তার এই অদম্য চেষ্টা ও মেধার স্বাক্ষর হিসেবেই মাত্র ৭৩ দিনে ৩০ পারা কোরআন হিফজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। মুসাইবের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা মিজানুর রহমান বেপারী। তিনি বলেন, ছেলের মেধা আল্লাহ প্রদত্ত। সেই মেধাকে দ্বীনের পথে কাজে লাগানোর জন্যই তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। মাত্র ৭৩ দিনে হাফেজ হওয়ায় তিনি আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ছেলের জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। মুসাইব হোসাইন জানায়, সবার দোয়ায় সে এই গৌরব অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আলেম হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।

মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক জানান, অল্প সময়ে কোরআন হিফজ করার খবর দেশ–বিদেশের বিভিন্ন স্থানে শোনা গেলেও, এই মাদ্রাসায় এমন সাফল্য এবারই প্রথম। তিনি বলেন, ‘অন্যরা যখন খেলাধুলা করত, মুসাইব তখন নিভৃতে কোরআন পাঠে মগ্ন থাকত। রাতেও অন্যদের চেয়ে বেশি সময় সে অধ্যবসায় করত। এটি নিঃসন্দেহে আল্লাহর বিশেষ রহমত।’ উবাই ইবনে কাব (রা.) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসাটি এর আগেও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। মুসাইবের এই অর্জন মাদ্রাসার মুকুটে নতুন এক পালক যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।