ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ঝাজ্জার জেলার একটি খামারবাড়িতে বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক বিয়ের অনুষ্ঠান। প্রায় ৫০০ অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন থাকলেও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি বর। কারণ, বিয়ের জন্য পাওয়া মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোল শেষ হওয়ায় রাত ৮টার দিকে তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়।
বর মাইনপাল ধিল্লা, যিনি মাইনপাল বদলি নামেও পরিচিত, একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। তার কনে মেটা চানমিয়া কম্বোডিয়ার নাগরিক। ধারণা করা হয়, ২০১৮ সালে কম্বোডিয়ায় তাদের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা কম্বোডিয়ার সিয়েম রিপে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।
ঝাজ্জারের পুলিশ সুপার সিমারদীপ সিং জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি প্রবেশকারীদের তল্লাশি করা হয়। অতিথি ও স্বজনদের চলাচলের ওপরও নজরদারি ছিল। নিরাপত্তার কারণে সংবাদমাধ্যমকে অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পুলিশ ও কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ধিল্লা ২০০৭ সালে বাহাদুরগড়ে দায়ের হওয়া হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলায় ২০১৩ সালের এপ্রিলে যাবজ্জীবন সাজা পান। এছাড়া আরও দুটি মামলাতেও তার সাজা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে হিসার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছয় সপ্তাহের প্যারোল পেয়েছিলেন ধিল্লা। তবে প্যারোল শেষে তিনি আর কারাগারে ফেরেননি। কর্মকর্তাদের দাবি, একই বছরের আগস্টে ভুয়া পরিচয়ে ভারত ছাড়েন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বরে তাকে ভারতে ফেরানো হলে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। আগেরবার প্যারোলে বের হয়ে আর না ফেরার ঘটনা থাকায় এবার বিয়ের জন্য তাকে মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয় এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়।
ফলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও নববধূকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সংসারে ফেরা হয়নি মাইনপাল ধিল্লার। প্যারোলের সময় শেষ হতেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে কারাগারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট 





















