ঢাকা , বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
উপকার হবে জানিয়ে ২০ দিন আগে হাদির অফিসে কবিরকে নিয়ে যান ফয়সাল হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ৩ অস্ত্র উদ্ধার, শুটার ফয়সালের বাবা গ্রেপ্তার প্রস্তুত তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিস হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি ব্রেনের ফোলা কমেনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি: চিকিৎসক হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অপারেশনের অপেক্ষায় ডাক্তাররা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক ফয়াসলই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিল: ফয়সালের সহযোগী জামায়াত যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে : আমির হামজা মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না

ফল প্রকাশে দেরি, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য প্যানেলের বিক্ষোভ ও আন্দোলন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২৯ ঘণ্টা পার হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও ভোট গণনা শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাত ৮টায় হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়। ৮টার পর শুরু হয় জাকসুর ভোট গণনা। এতে ২৫টি পদে প্রার্থীদের ভোট গণনা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার ফল ঘোষণার সময় দিয়েও তা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ভোট গণনায় ধীরগতি এবং ঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ করতে না পারায় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচন স্থগিত করার চেষ্টা চলছে-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই খবরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা সিনেট ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালালে আন্দোলনে নামার হুমকিও দেন তারা। ফলাফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে রাজধানীর পল্টনে মিছিল করেছে ছাত্রশিবির।

 

হাতে ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া এবং একজন শিক্ষিকার মৃত্যুতে এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একদিকে শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোক, অন্যদিকে প্রার্থীদের বিক্ষোভ এবং শিক্ষকদের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার বিকালে কিছু সময়ের জন্য ভোট গণনা স্থগিত হয়ে যায়। ওই সময়ে ম্যানুয়াল নাকি ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা হবে তা নিয়ে সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান অংশ নেন। ওই বৈঠকের পর আবারও হাতেই ভোট গণনা শুরু হয়।

 

 

 

পরে নির্বাচন স্থগিতের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে সংগ্রাম করেছি, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) পর জাকসু নির্বাচন হচ্ছে। এর মাধ্যমেই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটা আসলে পরিপূর্ণ হবে। ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যেই চেতনার জায়গা থেকে আপনারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে জাকসু সভাপতি হিসাবে এখানে অবস্থান করছি।

 

এর আগে সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও নবাব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেন, সহকর্মী চারুকলা অনুষদের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু নির্বাচনি চাপের ফল। তাকে প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে হয়েছে। রাতে ঘুমাতে পারেননি, জোর করে অফিসে এনে ভোট গণনায় বসানো হয়। তাড়াহুড়োয় দরজায় ধাক্কা খেয়ে আহত হন তিনি। অবশেষে সেটিই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের আগে জানানো হয়েছিল ভোট ওএমআর মেশিনে গণনা হবে। পরে তা বদলে হাতে গোনা শুরু হয়। হাতে গণনাই যদি করতে হতো, তবে হল পর্যায়ে কেন হলো না? জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বলে দাবি করে বিচার ও ক্ষতিপূরণও চান তিনি।

 

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ সিকদার শাওন বলেন, ‘৩৩ বছর পর আমরা উচ্ছ্বসিত ছিলাম, কিন্তু এই বিলম্ব আনন্দ নষ্ট করছে। মাত্র ১১ হাজার ভোট গণনায় এত সময় লাগছে কেন? কারচুপির আশঙ্কাও অনেকের মনে জন্ম নিচ্ছে।

 

শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে যেখানে ৪০ হাজার ভোট কয়েক ঘণ্টায় গণনা হয়, সেখানে ১১ হাজার ভোটেই গড়িমসি চলছে। আমাদের বলা হয়েছিল রাত ১২টার মধ্যেই ফল হবে, তাই সারা রাত এজেন্টদের নিয়ে অপেক্ষা করেছি। এখন সবাই ক্লান্ত, হতাশ। প্রয়োজনে বাড়তি জনবল নিয়োগ করে দ্রুত ফল ঘোষণা করা উচিত।

 

জাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কয়েক প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওমএমআর পদ্ধতি বাতিল করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাতে ব্যালট গুনতে সময় বেশি লাগছে। ভোট গণনা করতে এসে গতকাল জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় অন্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এতেও কাজ অনেকটা শ্লথ হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মেশিনে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে নির্বাচন কমিশন। এতে আগের মতোই হাতে ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর জাকসু ও ২১টি হলের ফল একযোগে ঘোষণা হবে।

 

ওএমআর পদ্ধতিতে দ্রুত ভোট গণনার দাবি উঠলেও ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে হাতেই গণনা হবে বলে গতকাল সন্ধ্যায় জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, যে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলে আসছে হাতে গুনছি সে হাতেই গোনা হবে। এভাবে চলতে থাকবে। কিন্তু আমরা যেন আরও স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের কাজটাকে এগিয়ে নিতে পারি, সেজন্য আরও বেশি জনবল নিয়ে কাজ করতে চাই।

 

৩৩ বছর পর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একযোগে ২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাকসুতে আটটি প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের পর শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নীরবতা বিরাজ করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ক্লাস বা পরীক্ষা ছিল না। পথে প্রান্তরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটাই কৌতূহল ছিল জাকসুর নেতৃত্বে কারা আসছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মনিটরে ভোট গণনার দৃশ্য দেখছিলেন উৎসুক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভোট গণনার স্থান সিনেট ভবনের নিচে দিনভর লোকসমাগম ছিল। তবে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

ফল ঘোষণায় দেরি ও নির্বাচন স্থগিতের গুঞ্জন, উত্তেজনা : গতকাল বিকালে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন উঠে যে কোনো সময়ে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে। এজন্য ধীরগতিতে ভোট গণনা চলছে। একজন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করবেন এবং নির্বাচন বাতিলের দাবি জানাবেন। ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে সিনেট ভবনে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে আসেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনকে স্থগিত করতে চায়। ছাত্রদলের এক ঠুনকো অজুহাতে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা যেমন বাদ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনকেও বানচাল করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালে মূলত ইন্ধন দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি কয়েকজন শিক্ষক, যারাই মূলত নির্বাচনের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী। তাদেরই একজন শিক্ষক এক হলের প্রভোস্ট হয়েও আরেক হলে গিয়ে মব সৃষ্টি করেছেন। ছাত্রদলকে ব্যবহার করে তিনি ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়েছেন। মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সম্মানিত শিক্ষিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে সেই স্যারের গ্রুপ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই ক্যাম্পাস কোনো স্যারের গ্রুপের নয়, এই ক্যাম্পাস কোনো দলের নয়। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিতে চাই, আজকের (শুক্রবার) মধ্যে যদি ভোট গণনা কার্যক্রম শেষ না হয় এবং এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা না দেওয়া হয় আমরা কঠোর অবস্থান নেব। নির্বাচন বানচালের কোনো প্রকার অপপ্রয়াস সফল হতে দেওয়া হবে না।

 

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের ভিসি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফল দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রশাসন তা দেয়নি। শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের ফল দেবে বললেও তা আমরা পাইনি। পরে আবার জানানো হয়, বিকাল ৫টার মধ্যে ফল ঘোষণা করবে। সেটিও কিন্তু দ্বিতীয় দফাতে আবার পেছানো হয়। তিনি বলেন, আমরা চাই না, ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল-দুই পদ্ধতিতে ভোট গণনা হোক। এতে নির্বাচন নিয়ে আরেকটি বিতর্ক সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে একটি মেসেজ দিতে এসেছি আর বিভিন্ন মহল থেকে আমরা শুনতে পাচ্ছি যে জাকসুর ফল স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে যে রায় দেবে সেই রায়কে আমরা মেনে নেব।

 

বাগছাস প্যানেলের সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব সিনেট ভবনের নিচে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, নির্বাচন কমিশনের ভেতরে থাকা কয়েকজন এবং বিএনপন্থি ও বামপন্থি কিছু শিক্ষক এই নির্বাচনের ফল স্থগিতের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সিনেট ভবনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন এবং তারা জাকসুর ফল নিয়েই ঘরে ফেরবেন। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হতে দেবেন না এবং যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা তারা মোকাবিলা করবেন।

 

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাগছাসের সংবাদ সম্মেলন : জাকসু নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। বাগছাস সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে মনোনয়ন দাখিলের সময় গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এক ভিপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল, ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট হলেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উপকার হবে জানিয়ে ২০ দিন আগে হাদির অফিসে কবিরকে নিয়ে যান ফয়সাল

ফল প্রকাশে দেরি, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য প্যানেলের বিক্ষোভ ও আন্দোলন

আপডেট সময় ০২:৩৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২৯ ঘণ্টা পার হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও ভোট গণনা শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাত ৮টায় হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়। ৮টার পর শুরু হয় জাকসুর ভোট গণনা। এতে ২৫টি পদে প্রার্থীদের ভোট গণনা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার ফল ঘোষণার সময় দিয়েও তা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ভোট গণনায় ধীরগতি এবং ঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ করতে না পারায় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচন স্থগিত করার চেষ্টা চলছে-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ওই খবরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা সিনেট ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা চালালে আন্দোলনে নামার হুমকিও দেন তারা। ফলাফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে রাজধানীর পল্টনে মিছিল করেছে ছাত্রশিবির।

 

হাতে ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া এবং একজন শিক্ষিকার মৃত্যুতে এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একদিকে শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোক, অন্যদিকে প্রার্থীদের বিক্ষোভ এবং শিক্ষকদের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার বিকালে কিছু সময়ের জন্য ভোট গণনা স্থগিত হয়ে যায়। ওই সময়ে ম্যানুয়াল নাকি ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা হবে তা নিয়ে সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান অংশ নেন। ওই বৈঠকের পর আবারও হাতেই ভোট গণনা শুরু হয়।

 

 

 

পরে নির্বাচন স্থগিতের গুঞ্জন উড়িয়ে দেন ভিসি ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে সংগ্রাম করেছি, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) পর জাকসু নির্বাচন হচ্ছে। এর মাধ্যমেই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটা আসলে পরিপূর্ণ হবে। ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যেই চেতনার জায়গা থেকে আপনারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে জাকসু সভাপতি হিসাবে এখানে অবস্থান করছি।

 

এর আগে সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও নবাব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেন, সহকর্মী চারুকলা অনুষদের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু নির্বাচনি চাপের ফল। তাকে প্রচণ্ড চাপ সহ্য করতে হয়েছে। রাতে ঘুমাতে পারেননি, জোর করে অফিসে এনে ভোট গণনায় বসানো হয়। তাড়াহুড়োয় দরজায় ধাক্কা খেয়ে আহত হন তিনি। অবশেষে সেটিই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের আগে জানানো হয়েছিল ভোট ওএমআর মেশিনে গণনা হবে। পরে তা বদলে হাতে গোনা শুরু হয়। হাতে গণনাই যদি করতে হতো, তবে হল পর্যায়ে কেন হলো না? জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বলে দাবি করে বিচার ও ক্ষতিপূরণও চান তিনি।

 

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ সিকদার শাওন বলেন, ‘৩৩ বছর পর আমরা উচ্ছ্বসিত ছিলাম, কিন্তু এই বিলম্ব আনন্দ নষ্ট করছে। মাত্র ১১ হাজার ভোট গণনায় এত সময় লাগছে কেন? কারচুপির আশঙ্কাও অনেকের মনে জন্ম নিচ্ছে।

 

শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে যেখানে ৪০ হাজার ভোট কয়েক ঘণ্টায় গণনা হয়, সেখানে ১১ হাজার ভোটেই গড়িমসি চলছে। আমাদের বলা হয়েছিল রাত ১২টার মধ্যেই ফল হবে, তাই সারা রাত এজেন্টদের নিয়ে অপেক্ষা করেছি। এখন সবাই ক্লান্ত, হতাশ। প্রয়োজনে বাড়তি জনবল নিয়োগ করে দ্রুত ফল ঘোষণা করা উচিত।

 

জাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কয়েক প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওমএমআর পদ্ধতি বাতিল করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাতে ব্যালট গুনতে সময় বেশি লাগছে। ভোট গণনা করতে এসে গতকাল জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় অন্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এতেও কাজ অনেকটা শ্লথ হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মেশিনে ওএমআর পদ্ধতিতে ভোট গণনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসে নির্বাচন কমিশন। এতে আগের মতোই হাতে ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর জাকসু ও ২১টি হলের ফল একযোগে ঘোষণা হবে।

 

ওএমআর পদ্ধতিতে দ্রুত ভোট গণনার দাবি উঠলেও ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে হাতেই গণনা হবে বলে গতকাল সন্ধ্যায় জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, যে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলে আসছে হাতে গুনছি সে হাতেই গোনা হবে। এভাবে চলতে থাকবে। কিন্তু আমরা যেন আরও স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের কাজটাকে এগিয়ে নিতে পারি, সেজন্য আরও বেশি জনবল নিয়ে কাজ করতে চাই।

 

৩৩ বছর পর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একযোগে ২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাকসুতে আটটি প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’।

 

সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণের পর শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নীরবতা বিরাজ করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ক্লাস বা পরীক্ষা ছিল না। পথে প্রান্তরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটাই কৌতূহল ছিল জাকসুর নেতৃত্বে কারা আসছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মনিটরে ভোট গণনার দৃশ্য দেখছিলেন উৎসুক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভোট গণনার স্থান সিনেট ভবনের নিচে দিনভর লোকসমাগম ছিল। তবে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

ফল ঘোষণায় দেরি ও নির্বাচন স্থগিতের গুঞ্জন, উত্তেজনা : গতকাল বিকালে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন উঠে যে কোনো সময়ে নির্বাচন স্থগিত হতে পারে। এজন্য ধীরগতিতে ভোট গণনা চলছে। একজন শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করবেন এবং নির্বাচন বাতিলের দাবি জানাবেন। ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে সিনেট ভবনে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে আসেন শিবির সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনকে স্থগিত করতে চায়। ছাত্রদলের এক ঠুনকো অজুহাতে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা যেমন বাদ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনকেও বানচাল করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালে মূলত ইন্ধন দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি কয়েকজন শিক্ষক, যারাই মূলত নির্বাচনের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী। তাদেরই একজন শিক্ষক এক হলের প্রভোস্ট হয়েও আরেক হলে গিয়ে মব সৃষ্টি করেছেন। ছাত্রদলকে ব্যবহার করে তিনি ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়েছেন। মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সম্মানিত শিক্ষিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে সেই স্যারের গ্রুপ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই ক্যাম্পাস কোনো স্যারের গ্রুপের নয়, এই ক্যাম্পাস কোনো দলের নয়। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিতে চাই, আজকের (শুক্রবার) মধ্যে যদি ভোট গণনা কার্যক্রম শেষ না হয় এবং এই নির্বাচনের ফল ঘোষণা না দেওয়া হয় আমরা কঠোর অবস্থান নেব। নির্বাচন বানচালের কোনো প্রকার অপপ্রয়াস সফল হতে দেওয়া হবে না।

 

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের ভিসি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের ফল দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু প্রশাসন তা দেয়নি। শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের ফল দেবে বললেও তা আমরা পাইনি। পরে আবার জানানো হয়, বিকাল ৫টার মধ্যে ফল ঘোষণা করবে। সেটিও কিন্তু দ্বিতীয় দফাতে আবার পেছানো হয়। তিনি বলেন, আমরা চাই না, ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল-দুই পদ্ধতিতে ভোট গণনা হোক। এতে নির্বাচন নিয়ে আরেকটি বিতর্ক সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে একটি মেসেজ দিতে এসেছি আর বিভিন্ন মহল থেকে আমরা শুনতে পাচ্ছি যে জাকসুর ফল স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষার্থীরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে যে রায় দেবে সেই রায়কে আমরা মেনে নেব।

 

বাগছাস প্যানেলের সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব সিনেট ভবনের নিচে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, নির্বাচন কমিশনের ভেতরে থাকা কয়েকজন এবং বিএনপন্থি ও বামপন্থি কিছু শিক্ষক এই নির্বাচনের ফল স্থগিতের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সিনেট ভবনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন এবং তারা জাকসুর ফল নিয়েই ঘরে ফেরবেন। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হতে দেবেন না এবং যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা তারা মোকাবিলা করবেন।

 

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বাগছাসের সংবাদ সম্মেলন : জাকসু নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের অদক্ষতা, সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। বাগছাস সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে মনোনয়ন দাখিলের সময় গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এক ভিপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল, ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট হলেও ফল প্রকাশ না হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।