ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ উপলক্ষে ৪০ হাজার মানুষকে খাওনো হলো বিরিয়ানি জনতার ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন: রেজাউল করীম বেগম জিয়ার খোঁজ নিতে ফের এভারকেয়ারে জুবাইদা রহমান বাবরি মসজিদ নির্মাণে বাজেট ৩০০ কোটি, এক ব্যবসায়ীই দিবেন ৮০ কোটি টাকা তফসিল এ সপ্তাহেই, ভোটের সময় বাড়বে এক ঘণ্টা: ইসি সানাউল্লাহ টাকা, প্রভাবশালী মামা-খালু-শ্বশুর না থাকলে রাজনীতি কইরেন না: দুধ দিয়ে গোসল যুবদল নেতার নিজ এলাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার স্লোগান ‘ফুয়াদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ ভয়াবহ হামলায় একদিনে ১৪৫০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত বিকেলে এনসিপিসহ তিন দলের নতুন জোটের ঘোষণা ঘরে ঢুকে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা

দায়িত্ব নিয়েই পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন সুশীলা কার্কি, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৯৯ বার পড়া হয়েছে

এবার নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নিয়েছেন সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে সুপারিশ করেছেন তিনি। তার পরামর্শ মোতাবেক পার্লামেন্ট অবলুপ্ত করেন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওদেল। নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেছেন, শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ। রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তার নেতৃত্বে ছোট মন্ত্রিসভার একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এটির মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়।

সুশীলার শপথগ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং চলমান ‘জেন-জি বিপ্লব’ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একত্রে বৈঠক করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।

শপথ নেওয়ার পর আবেগঘন এক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী কার্কির পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন ‘জেন-জি বিপ্লবের’ নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতা সুদান গুরুং। এদিকে গত সপ্তাহে জেন-জি বিক্ষোভ প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিলেও এর রেশ শুরু হয়েছিল আরও আগে থেকে। হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশটিতে দারিদ্র্য থাকলেও রাজনৈতিক নেতা ও কর্তাব্যক্তিদের সন্তানদের বিদেশে ভোগবিলাস ও রাজকীয় জীবন-যাপন ক্ষোভ তৈরি করছিল।

এসব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মগুলোতে সমালোচনা ও নিন্দা হতে থাকে। এর সঙ্গে প্রকাশ হতে থাকে সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভও। নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কিনেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কি

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। এই পদক্ষেপে উল্টো রাস্তায় নামেন প্রতিবাদকারীরা। তারা ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করলে সেদিনই ১৯ জন নিহত হন। যদি তা এখন পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। ২০১৬ সালে দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন সুশীলা কার্কি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ উপলক্ষে ৪০ হাজার মানুষকে খাওনো হলো বিরিয়ানি

দায়িত্ব নিয়েই পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন সুশীলা কার্কি, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নিয়েছেন সুশীলা কার্কি। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে সুপারিশ করেছেন তিনি। তার পরামর্শ মোতাবেক পার্লামেন্ট অবলুপ্ত করেন প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাওদেল। নেপালের প্রেসিডেন্টের প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখরেল বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেছেন, শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ। রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তার নেতৃত্বে ছোট মন্ত্রিসভার একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এটির মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়।

সুশীলার শপথগ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং চলমান ‘জেন-জি বিপ্লব’ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একত্রে বৈঠক করেন। সর্বসম্মতিক্রমে তাকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।

শপথ নেওয়ার পর আবেগঘন এক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী কার্কির পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন ‘জেন-জি বিপ্লবের’ নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতা সুদান গুরুং। এদিকে গত সপ্তাহে জেন-জি বিক্ষোভ প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিলেও এর রেশ শুরু হয়েছিল আরও আগে থেকে। হিমালয়ের কোলঘেঁষা দেশটিতে দারিদ্র্য থাকলেও রাজনৈতিক নেতা ও কর্তাব্যক্তিদের সন্তানদের বিদেশে ভোগবিলাস ও রাজকীয় জীবন-যাপন ক্ষোভ তৈরি করছিল।

এসব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মগুলোতে সমালোচনা ও নিন্দা হতে থাকে। এর সঙ্গে প্রকাশ হতে থাকে সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভও। নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কিনেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কি

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার। এই পদক্ষেপে উল্টো রাস্তায় নামেন প্রতিবাদকারীরা। তারা ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগ করলে সেদিনই ১৯ জন নিহত হন। যদি তা এখন পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। ২০১৬ সালে দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন সুশীলা কার্কি।