ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ, ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চের কাণ্ডে সমালোচনার ঝড় দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোন ডিসেম্বর আসবেন ক্লিয়ার করেন: শেখ হাসিনাকে হুইপ দুলু মোদির ডিনারেও আসেননি, তড়িঘড়ি করে ভারত ছাড়লেন চীনা প্রেসিডেন্ট হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে নানকের কাছে মাসে যাচ্ছে কোটি টাকা, নেপথ্যে যারা ‘উনি ঠিক আছেন তো?’, জিনপিংকে নিয়ে মোদির প্রশ্ন নেপথ্যে কী? ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’ মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ১১ দলের ঢাকা–রংপুর লংমার্চ শুরু  শির দিল্লি সফরের মাঝেই মিলল তথ্য, ভারতীয় সীমান্তে অগ্রসর হচ্ছে চীনা সেনারা

দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতৃত্বের তিন পরিচিত মুখমীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আলসাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে পেজেশকিয়ানের ভারত সফরের সময় ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির দ্য ওবেরয় হোটেলে ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালির আয়োজনে ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মীরওয়াইজ উমর ফারুককে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীনগর থেকে দিল্লি যেতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানের পর মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। চলমান পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন কাশ্মীরের নেতারা। প্রদর্শনীতে ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে বিভিন্ন ছবি ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। মীরওয়াইজ ও ইমরান রেজা আনসারির সেখানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। মীরওয়াইজের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। একই অনুষ্ঠানে আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আলসাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারিও অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতি কাশ্মীরের সুন্নি ও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও ইরানের অবস্থানে অতীতে পার্থক্য দেখা গেছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওই মন্তব্যের পর ভারত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। এর পরও দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের চাবাহার বন্দর, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালেও ভারতের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে খামেনির মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত সরকার।

সাম্প্রতিক বৈঠকটি সেই পুরোনো প্রেক্ষাপটের কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এটিকে কাশ্মীর ইস্যুতে ইরানের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখার মতো কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং এটি ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত বৃহত্তর ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও পেজেশকিয়ানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। ফলে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফর ভারতইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিন্নাহকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ, ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চের কাণ্ডে সমালোচনার ঝড়

দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন কাশ্মীরি নেতার বৈঠক

আপডেট সময় ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতৃত্বের তিন পরিচিত মুখমীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আলসাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে পেজেশকিয়ানের ভারত সফরের সময় ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির দ্য ওবেরয় হোটেলে ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালির আয়োজনে ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মীরওয়াইজ উমর ফারুককে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শ্রীনগর থেকে দিল্লি যেতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানের পর মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। চলমান পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন কাশ্মীরের নেতারা। প্রদর্শনীতে ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে বিভিন্ন ছবি ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। মীরওয়াইজ ও ইমরান রেজা আনসারির সেখানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। মীরওয়াইজের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণেই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। একই অনুষ্ঠানে আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আলসাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারিও অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতি কাশ্মীরের সুন্নি ও শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এনেছে।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও ইরানের অবস্থানে অতীতে পার্থক্য দেখা গেছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওই মন্তব্যের পর ভারত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। এর পরও দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের চাবাহার বন্দর, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালেও ভারতের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে খামেনির মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভারত সরকার।

সাম্প্রতিক বৈঠকটি সেই পুরোনো প্রেক্ষাপটের কারণেও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এটিকে কাশ্মীর ইস্যুতে ইরানের নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখার মতো কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং এটি ইরানি দূতাবাসের আয়োজিত বৃহত্তর ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও পেজেশকিয়ানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। ফলে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফর ভারতইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।