ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে নানকের কাছে মাসে যাচ্ছে কোটি টাকা, নেপথ্যে যারা ‘উনি ঠিক আছেন তো?’, জিনপিংকে নিয়ে মোদির প্রশ্ন নেপথ্যে কী? ‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’ মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ১১ দলের ঢাকা–রংপুর লংমার্চ শুরু  শির দিল্লি সফরের মাঝেই মিলল তথ্য, ভারতীয় সীমান্তে অগ্রসর হচ্ছে চীনা সেনারা সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নয়: পেজেশকিয়ান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিলে অংশ নেওয়া আরও ৪০ জন গ্রেফতার এআই মানবজাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: দাবি গবেষকের কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে দুদিন ধরে মাইকিং যুবকের জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রের আইনি বৈধতা নেই: হাইকোর্ট

‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জীবনযুদ্ধে মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতার কাছে হেরে যায়। আবার কখনো কখনো দরিদ্রতাকে জয় করে। শেরপুরে এমনই এক ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দম্পত্তি রয়েছে, যাদের ভালোবাসার কাছে দরিদ্রতা হেরে গেছে। শুধু তাই নয়, হেরে গেছে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগবালাই। এ দম্পত্তি হলো, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সাজু শেখ এবং বৃদ্ধা নূরজাহান। প্রায় ৭০ বছর আগে সাজু শেখ ও নূরজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা সাজু শেখের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করলেও আর্থিক দৈন্যতায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এ সীমিত আয়ের মধ্যেও সাজু শেখ ও নূরজাহানের ভালোবাসার কমতি ছিল না। 

তাদের এ দীর্ঘ জীবনে তিন কন্যা ও তিন পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তিন কন্যার অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। ওই মেয়েদের কেউ কেউ কালেভদ্রে বাবার খোঁজ নেয়। আর তিন পুত্রের মধ্যে একজন করোনার সময় নিরুদ্দেশ হলেও মাঝেমধ্যে খোঁজখবর রাখেন তাদের। আরেকজন ঢাকায় রিকশা চালায়। তিনিও বছরে দুএকবার বাড়িতে আসেন। 

শেরপুরের বসবাসকারী অপর পুত্র নূর ইসলাম দিনমজুর ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বৃদ্ধ মাবাবার সাধ্যমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন; কিন্তু এ দুর্মূল্যের বাজারে পুত্র নূর ইসলামের নিজের সংসারে চলে টানাটানির মধ্যে। তারও স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়; তাই মাবাবার ভরণপোষণ ঠিকমতো করতে পারেন না। 

প্রায় পাঁচ বছর আগে নূরজাহান পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। তারপর থেকেই নূরজাহান বিছানায় শয্যাশায়ী। দৈন্যতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছে না স্বামী সাজু শেখ। ওদিকে নূরজাহানের পুত্র নূর ইসলামও মায়ের চিকিৎসার জন্য নিরুপায়। ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে সাজু শেখ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে এমনই এক কষ্টের আকুতি করেন। তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন-‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।তাদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে নানকের কাছে মাসে যাচ্ছে কোটি টাকা, নেপথ্যে যারা

‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’

আপডেট সময় ০১:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনযুদ্ধে মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতার কাছে হেরে যায়। আবার কখনো কখনো দরিদ্রতাকে জয় করে। শেরপুরে এমনই এক ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দম্পত্তি রয়েছে, যাদের ভালোবাসার কাছে দরিদ্রতা হেরে গেছে। শুধু তাই নয়, হেরে গেছে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগবালাই। এ দম্পত্তি হলো, শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সাজু শেখ এবং বৃদ্ধা নূরজাহান। প্রায় ৭০ বছর আগে সাজু শেখ ও নূরজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা সাজু শেখের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করলেও আর্থিক দৈন্যতায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। কিন্তু এ সীমিত আয়ের মধ্যেও সাজু শেখ ও নূরজাহানের ভালোবাসার কমতি ছিল না। 

তাদের এ দীর্ঘ জীবনে তিন কন্যা ও তিন পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তিন কন্যার অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। ওই মেয়েদের কেউ কেউ কালেভদ্রে বাবার খোঁজ নেয়। আর তিন পুত্রের মধ্যে একজন করোনার সময় নিরুদ্দেশ হলেও মাঝেমধ্যে খোঁজখবর রাখেন তাদের। আরেকজন ঢাকায় রিকশা চালায়। তিনিও বছরে দুএকবার বাড়িতে আসেন। 

শেরপুরের বসবাসকারী অপর পুত্র নূর ইসলাম দিনমজুর ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বৃদ্ধ মাবাবার সাধ্যমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন; কিন্তু এ দুর্মূল্যের বাজারে পুত্র নূর ইসলামের নিজের সংসারে চলে টানাটানির মধ্যে। তারও স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়; তাই মাবাবার ভরণপোষণ ঠিকমতো করতে পারেন না। 

প্রায় পাঁচ বছর আগে নূরজাহান পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। তারপর থেকেই নূরজাহান বিছানায় শয্যাশায়ী। দৈন্যতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছে না স্বামী সাজু শেখ। ওদিকে নূরজাহানের পুত্র নূর ইসলামও মায়ের চিকিৎসার জন্য নিরুপায়। ৯ সেপ্টেম্বর ঘরের দরজায় বাইরে দাঁড়িয়ে সাজু শেখ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে এমনই এক কষ্টের আকুতি করেন। তিনি কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন-‘আল্লাহ আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।তাদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।