ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল বিসিবির টাকা এসেছে ক্রিকেটারদের শ্রমে ঘামে: মেহেদী মিরাজ

নিজের সবকিছুর বিনিময়ে হলেও আল্লাহ শরিফ ওসমান হাদিকে ফিরিয়ে দিন: মাহমুদুর রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ফজরের নামাজে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন—নিজের সবকিছুর বিনিময়ে হলেও যেন শরিফ ওসমান হাদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, “আমাদের আর দেশকে দেওয়ার কিছু নেই, কিন্তু হাদির দেওয়ার এখনো অনেক কিছু বাকি।”

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি জুলাই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি। হাদির ওপর হামলা করে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকেই আগামী দিনের আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

বক্তব্যের শুরুতে হাদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার সময় হাদিই তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেছিলেন। মাত্র পাঁচ মাস আগে তারা একসঙ্গে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন করেছেন। “আজ সেই হাদি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে”—বলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বহু ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জুলাই বিপ্লব পরাজিত হয়নি—হাদি তারই প্রমাণ। যারা জুলাইকে বিপ্লব বলতে অস্বীকার করে, তারা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথাকথিত সুশীল সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা কখনোই ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। নতুন প্রজন্মকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই তরুণদেরই এগিয়ে নিতে হবে।

হাদির কালচারাল উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, তরুণদের বইমুখী করতে হাদি যে কালচারাল সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন, আজ থেকে তিনি সেই কেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। “হাদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার অসমাপ্ত কাজ আমি চালিয়ে নিয়ে যাব,” বলেন তিনি।

ড. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আগের দিন ঘোষণা করা হবে—এই বিজয় দিল্লির কাছ থেকে পাওয়া নয় এবং দিল্লির কাছে সমর্পণও করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা প্রতিহত করতে সর্বদলীয় ঐক্য প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হাদির ওপর হামলার আগে একাধিকবার হুমকির তথ্য সরকারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, এই সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন হাদিকে গুলি করে এই লড়াই থামানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার রুখে দাঁড়িয়ে জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণতা দিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা

নিজের সবকিছুর বিনিময়ে হলেও আল্লাহ শরিফ ওসমান হাদিকে ফিরিয়ে দিন: মাহমুদুর রহমান

আপডেট সময় ০৭:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ফজরের নামাজে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছেন—নিজের সবকিছুর বিনিময়ে হলেও যেন শরিফ ওসমান হাদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, “আমাদের আর দেশকে দেওয়ার কিছু নেই, কিন্তু হাদির দেওয়ার এখনো অনেক কিছু বাকি।”

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি জুলাই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি। হাদির ওপর হামলা করে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকেই আগামী দিনের আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

বক্তব্যের শুরুতে হাদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার সময় হাদিই তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেছিলেন। মাত্র পাঁচ মাস আগে তারা একসঙ্গে তার মায়ের দাফন সম্পন্ন করেছেন। “আজ সেই হাদি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে”—বলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বহু ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জুলাই বিপ্লব পরাজিত হয়নি—হাদি তারই প্রমাণ। যারা জুলাইকে বিপ্লব বলতে অস্বীকার করে, তারা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথাকথিত সুশীল সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা কখনোই ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। নতুন প্রজন্মকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই তরুণদেরই এগিয়ে নিতে হবে।

হাদির কালচারাল উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, তরুণদের বইমুখী করতে হাদি যে কালচারাল সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন, আজ থেকে তিনি সেই কেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। “হাদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার অসমাপ্ত কাজ আমি চালিয়ে নিয়ে যাব,” বলেন তিনি।

ড. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আগের দিন ঘোষণা করা হবে—এই বিজয় দিল্লির কাছ থেকে পাওয়া নয় এবং দিল্লির কাছে সমর্পণও করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা প্রতিহত করতে সর্বদলীয় ঐক্য প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। হাদির ওপর হামলার আগে একাধিকবার হুমকির তথ্য সরকারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, এই সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ১৫ ডিসেম্বর শহীদ মিনার থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন হাদিকে গুলি করে এই লড়াই থামানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার রুখে দাঁড়িয়ে জুলাই বিপ্লবকে পূর্ণতা দিতে হবে।