নীলফামারীর ডোমার থানা পুলিশের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারী দল’ এবং দল দুটির নেতাকর্মীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি নেতার দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক সংসদ সদস্য ও তৎকালীন ডোমার থানার ওসিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
জানা যায়, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার এবং তৎকালীন ডোমার থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অজ্ঞাত ৩০–৪০ জনের বিরুদ্ধে ডোমার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন আদালতে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয় (মামলা নং জিআর-১৬৫, ডোমার)।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে ডোমার থানা পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ভোটকেন্দ্রকেন্দ্রিক সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন—এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের জিআর-৩/২০১৪ ও জিআর-৪/২০১৪ মামলার তথ্যও যুক্ত করা হয়।
তদন্তে বলা হয়, ওই সময়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকর্মীরা আসামি ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে কিছু গ্রেফতারও করা হয়। প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সাবেক এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার ও তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের ভাষা ও রাজনৈতিক দলকে ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে উল্লেখ করায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা মাসুদ বিন আমিন সুমন অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী লীগের এমপি ও ওসিকে বাঁচাতে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।”
এ বিষয়ে ডোমার থানার ওসি হাবিবুল্লাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।” তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মানিকুল ইসলামও ঊর্ধ্বতন অনুমতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























