রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেয়া সেনাসদস্যদের সঙ্গে ক্রেমলিনে বৈঠক করে প্রতিশোধমূলক হামলা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ড্রোন উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বৈঠকে তিনি স্টারলিংকের চেয়েও উন্নত স্যাটেলাইট রাশিয়ার কাছে রয়েছে বলে জানান।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস। এতে বলা হয়, শুক্রবার (১২ জুন) পালিত রাশিয়া দিবস মূলত সেনাসদস্যদের জন্য উৎসর্গীকৃত একটি দিন বলে জানিয়েছে পুতিন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় ৭ লাখেরও বেশি রুশ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে পুতিন দাবি করেন, ন্যাটো-প্ররোচিত যুদ্ধ শুরুর আগে আট বছর ধরে রাশিয়া শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিল। এ সময় রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে কাজ করছে তার সরকার।
প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, রাশিয়া ফার্স্ট-পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন এবং এআইচালিত ড্রোন উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রাশিয়ার নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের সমতুল্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নত হতে পারে।
সম্প্রতি আরও ১৬টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা এখনো যথেষ্ট নয়, বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ড্রোন মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে রাশিয়া এমন অস্ত্র তৈরি করছে যা প্রতিপক্ষের প্রযুক্তির চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
এছাড়া রাশিয়ার হাতে এমন অনেক সামরিক প্রযুক্তি রয়েছে যা প্রতিপক্ষের বহরে নেই বলেও দাবি করেন তিনি। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন পুতিন। তিনি বলেন, ইতিহাসে একাধিকবার ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে—নেপোলিয়নের সময় যেমন হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও তেমনটি দেখা গেছে। তবে তিনি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রশংসা করে বলেন, তারা যোগ্য প্রতিপক্ষ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। তারা আমাদের বড় কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারবে না। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে রাশিয়া প্রতিশোধমূলক হামলা আরও বাড়াবে, যাতে প্রতিপক্ষের এ ধরনের আক্রমণের আগ্রহ নষ্ট হয়।
সূত্র: তাস

ডেস্ক রিপোর্ট 


















