ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরিয়ে দিলেন মমতা শাপলার কসাই’ গ্রেপ্তার, ফেসবুকে শফিকুল আলমের রহস্যময় বার্তা এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে ১৩ ফেব্রুয়ারি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারত’ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল ভারতীয় সীমান্তে ‘ভবঘুরে’ নিয়ে একের পর এক ঘটনায় বিব্রত প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব শর্তে শান্তিচুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছে ইরান বেনজীরের গ্রেপ্তারে আনন্দিত পরীমণি গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকেই চোখ বন্ধ শিবির নেতা জিসান মিডিয়ার ওপর ডিপ্লোম্যাসির নামে নীতিহীনতা চেপে বসেছে

এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে কুমিল্লা- ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে এ সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।

 

এদিকে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের কারণে ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত’ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এমপি মনিরুলের এমন বক্তব্যকে বোরকা-নিকাব পরা নারীদের অপমান করার শামিল বলে মনে করেন ডাকসুর এ সদস্য।

 

 

রোববার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন সর্বমিত্র চাকমা। সন্ধ্যায় ৫টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) আজকে মহিলা সাংসদদের মধ্যে যারা নিকাব পরেন, তাদের কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, দুইজনের বক্তব্য শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা’’। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাংসদরা সেটাকে সমর্থন জানিয়ে টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।’

 

‘সংসদে দাঁড়িয়ে এটা একজন নারীর পোশাকের স্বাধীনতায় স্পষ্ট নগ্ন হস্তক্ষেপ’— উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে ডাকসুর এ সদস্য বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি আমার নারী সহপাঠীদের যারা বোরকা-হিজাব পরেন, তাদের কোথাও কোথাও কটাক্ষ করা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বাধার সম্মুখীন হন।’

 

‘সেই একই ধৃষ্টতা দেখা গেল মহান সংসদে, যা বাংলাদেশের কোটি কোটি নারী যারা বোরকা-নিকাব পরিধান করেন তাদের অপমান করার শামিল,’ যোগ করেন সর্ব মিত্র চাকমা।

 

তিনি আরও লেখেন, ‘দাঁড়ি-টুপি রাখলেও নিজের ধর্মের প্রতি তিনি (মনিরুল হক চৌধুরী) কতটা শ্রদ্ধাশীল তা তার কথায় তিনি স্পষ্ট করেছেন।’

 

স্ট্যাটাসের শেষে ডাকসু সদস্য বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এমন একটি সমাজে বিশ্বাসী, যেখানে মানুষ তার স্ব স্ব বিশ্বাস নিয়ে বাঁচবে। ধর্মানুরাগী নারীদের এভাবে অপমান করায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

 

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুন) মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের একপর্যায়ে ২০০১ সালে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। সে অনুষ্ঠানে বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও তার স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

 

কিছুটা হাস্যরস করে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি বউ নিয়ে যাইনি, কয়েকজন যায়নি। কিন্তু তাহের ভাই (সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের) বউ নিয়ে গেছেন। ঢুকার পর দেখি, একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বলেন, ‘এই যে!’ তখন বলি, ‘আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝবো?’ এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে দুই এমপিকে সরিয়ে দিলেন মমতা

এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত

আপডেট সময় ১১:১৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে কুমিল্লা- ৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে বিরোধী দলের আপত্তির মুখে এ সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।

 

এদিকে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের কারণে ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত’ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। এমপি মনিরুলের এমন বক্তব্যকে বোরকা-নিকাব পরা নারীদের অপমান করার শামিল বলে মনে করেন ডাকসুর এ সদস্য।

 

 

রোববার (১৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন সর্বমিত্র চাকমা। সন্ধ্যায় ৫টা ৪৫ মিনিটে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) আজকে মহিলা সাংসদদের মধ্যে যারা নিকাব পরেন, তাদের কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘আপনারা লেখাপড়া করে সংসদ সদস্য হয়েছেন, দুইজনের বক্তব্য শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা’’। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাংসদরা সেটাকে সমর্থন জানিয়ে টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান।’

 

‘সংসদে দাঁড়িয়ে এটা একজন নারীর পোশাকের স্বাধীনতায় স্পষ্ট নগ্ন হস্তক্ষেপ’— উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে ডাকসুর এ সদস্য বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি আমার নারী সহপাঠীদের যারা বোরকা-হিজাব পরেন, তাদের কোথাও কোথাও কটাক্ষ করা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বাধার সম্মুখীন হন।’

 

‘সেই একই ধৃষ্টতা দেখা গেল মহান সংসদে, যা বাংলাদেশের কোটি কোটি নারী যারা বোরকা-নিকাব পরিধান করেন তাদের অপমান করার শামিল,’ যোগ করেন সর্ব মিত্র চাকমা।

 

তিনি আরও লেখেন, ‘দাঁড়ি-টুপি রাখলেও নিজের ধর্মের প্রতি তিনি (মনিরুল হক চৌধুরী) কতটা শ্রদ্ধাশীল তা তার কথায় তিনি স্পষ্ট করেছেন।’

 

স্ট্যাটাসের শেষে ডাকসু সদস্য বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এমন একটি সমাজে বিশ্বাসী, যেখানে মানুষ তার স্ব স্ব বিশ্বাস নিয়ে বাঁচবে। ধর্মানুরাগী নারীদের এভাবে অপমান করায় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

 

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুন) মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যের একপর্যায়ে ২০০১ সালে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। সে অনুষ্ঠানে বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও তার স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

 

কিছুটা হাস্যরস করে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি বউ নিয়ে যাইনি, কয়েকজন যায়নি। কিন্তু তাহের ভাই (সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের) বউ নিয়ে গেছেন। ঢুকার পর দেখি, একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বলেন, ‘এই যে!’ তখন বলি, ‘আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝবো?’ এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।