কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক বিধবা নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষায় তার শারীরিক অবস্থায় গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করছেন এবং চোখ খুলছেন না।
পুলিশের দাবি, কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি শুরুতে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও মামলার বিষয় ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানার পর থেকেই অসুস্থতার ভান করছেন। তাদের দাবি, ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে এড়াতে তিনি আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
জিসান কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে রাতে এশিয়া পোস্টকে হালকা চোখ খুলে বলেছিলেন, ‘আমাকে একটি গাড়িতে টান দিয়ে ওঠানো হয়েছে। এরপর থেকে আর কোনোকিছু মনে নেই।’ পরের দিন সকালবেলা যখন কুমেক হাসপাতালের কেবিনে নেওয়া হয় তাকে, তখন থেকে তার চোখ ও কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান পরিবার।
এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। মেডিকেল বোর্ড সোমবার (১৫ জুন) তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত মতামত দেবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেন। একপর্যায়ে ওষুধের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয় পরে বিয়ের দাবি উঠলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত ১১ জুন নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার অপহরণের অভিযোগ তুললেও পুলিশ বলছে, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। তারা ছাত্রশিবিরের নেতা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাকে এখনও আদালতে হাজির করা যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, শুক্রবার রাতে যখন লাকসাম থেকে জিসান মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই খবর পেয়েছেন তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চোখই খুলছেন না।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















