ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুজনেরই ৭ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসর ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীর মরদেহ দেশে ফিরেছে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় মিলল সরকারি ধানের বীজ শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না তারেক রহমান মোহাম্মদপুরে কোনো ‘কিশোর গ্যাং’ সক্রিয় নেই: র‌্যাব প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির সময় ছেলেকে গুলি

নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:২২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে কবরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে উপজেলার আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এবং পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ১৮ কাঠা আয়তনের একটি পুরোনো কবরস্থানের মালিকানা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা কবরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকান নির্মাণ করে বাজার গড়ে তুলতে চাইলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন। তাদের দাবি, কবরস্থানটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি শুধু কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

বিরোধ মীমাংসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিসও অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুক্রবার সকালে কবরস্থানে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারও হামলা থেকে রক্ষা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় অন্তত ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হন। এর মধ্যে পানেশ্বর পাড়ারই ৫৪ জন রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া অভিযোগ করেন, কবরস্থানটি ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা দেখভাল করে আসছেন। সম্প্রতি তারা সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে মাটি কাটিয়েছেন। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপি এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের লোকজন জোর করে কবরস্থানের জায়গায় দোকান নির্মাণ করতে চাইছে। শুক্রবার সকালে হিরা মিয়া, হোসেন মিয়া, হযরত, টিটু, মওলা, মোশাররফ ও কামাল পাশার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তারা আরও দাবি করেন, কবরস্থানের বৈধ দলিল তাদের নামেই রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দলিল যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুজনেরই

নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

আপডেট সময় ০৫:২২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নে কবরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে উপজেলার আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া এবং পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ১৮ কাঠা আয়তনের একটি পুরোনো কবরস্থানের মালিকানা ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আমগড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা কবরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে ছোট দোকান নির্মাণ করে বাজার গড়ে তুলতে চাইলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন। তাদের দাবি, কবরস্থানটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি শুধু কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

বিরোধ মীমাংসার জন্য প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিসও অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুক্রবার সকালে কবরস্থানে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারও হামলা থেকে রক্ষা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় অন্তত ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হন। এর মধ্যে পানেশ্বর পাড়ারই ৫৪ জন রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া অভিযোগ করেন, কবরস্থানটি ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা দেখভাল করে আসছেন। সম্প্রতি তারা সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে মাটি কাটিয়েছেন। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপি এক লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের লোকজন জোর করে কবরস্থানের জায়গায় দোকান নির্মাণ করতে চাইছে। শুক্রবার সকালে হিরা মিয়া, হোসেন মিয়া, হযরত, টিটু, মওলা, মোশাররফ ও কামাল পাশার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তারা আরও দাবি করেন, কবরস্থানের বৈধ দলিল তাদের নামেই রয়েছে। প্রশাসনের কাছে দলিল যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।