ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প শিক্ষার্থীদের কাছে মোদির ক্ষমা চাওয়া উচিত: রাহুল শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক ভাওতাবাজি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত সাড়ে ৩ হাজার ছাড়াল, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসকে ডিজিটালাইজড করার সুখবর দিলেন ইউজিসি সদস্য আমার বা দলের বিরুদ্ধে গেলেও সত্য প্রকাশ করুন: শফিকুর রহমান সব বন্দর ২৪ ঘণ্টা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইতালির নেপলস আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

‘সারা জীবন ভারতেই কাটালাম, অথচ বাংলাদেশি বানিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিলো’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা দাবি করা সাহিদা ফকির (৪৫) অভিযোগ করেছেন, তাকে আটক করে পরিচয়পত্র জব্দ করার পর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় স্থানীয় এক বাসিন্দার আশ্রয়ে রয়েছেন।

সাহিদার দাবি, তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানার বিথারি হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছে ভারতের ভোটার আইডি, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং নিজ নামে জমির কাগজপত্র রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে জীবিকার সন্ধানে মুম্বাইয়ে যান। সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করতেন, আর তার স্বামী গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করতেন। তাদের দুই সন্তান বর্তমানে ভারতে রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তার মোবাইল ফোন, টাকা ও পরিচয়পত্র নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়। এরপর তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হলে, আরও কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা হয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আশ্রয় নেন। তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার পরিচয় যাচাই করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন মাসুম (বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) ঘটনাটি নিয়ে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ওই নারী বর্তমানে স্থানীয় এক বাসিন্দার আশ্রয়ে রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাহিদার অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না : ট্রাম্প

‘সারা জীবন ভারতেই কাটালাম, অথচ বাংলাদেশি বানিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিলো’

আপডেট সময় ১২:৪১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা দাবি করা সাহিদা ফকির (৪৫) অভিযোগ করেছেন, তাকে আটক করে পরিচয়পত্র জব্দ করার পর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় স্থানীয় এক বাসিন্দার আশ্রয়ে রয়েছেন।

সাহিদার দাবি, তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানার বিথারি হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছে ভারতের ভোটার আইডি, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং নিজ নামে জমির কাগজপত্র রয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে জীবিকার সন্ধানে মুম্বাইয়ে যান। সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করতেন, আর তার স্বামী গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করতেন। তাদের দুই সন্তান বর্তমানে ভারতে রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার সময় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তার মোবাইল ফোন, টাকা ও পরিচয়পত্র নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রাখা হয়। এরপর তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হলে, আরও কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত এলাকা হয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আশ্রয় নেন। তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার পরিচয় যাচাই করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন মাসুম (বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) ঘটনাটি নিয়ে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ওই নারী বর্তমানে স্থানীয় এক বাসিন্দার আশ্রয়ে রয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাহিদার অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।