বরিশাল নগরীর মাহমুদিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে হাজার হাজার মুসল্লীর উপস্থিতিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আলেম-ওলামা, ইসলাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম-ওলামা, ইসলামী আদর্শ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং হেফাজতে ইসলামের নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এমনকি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তিনি বজ্রকণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
আবু নাসের রহমাতুল্লাহ আরও বলেন, আলেম-ওলামা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি কখনোই ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সঙ্গে আপোষ করেননি। তার প্রতিটি বক্তব্য ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে শুরু হতো এবং ইসলাম ও মুসলমানদের কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।
তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় তিনি উপস্থিত হাজার হাজার মুসল্লী ও আলেম-ওলামাদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানান, যাতে তিনি সুস্থ হয়ে আবার দেশ, জাতি ও ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
মাহফিলে বক্তৃতাকালে আবু নাসের রহমাতুল্লাহ আগামী দিনে কোনো ইসলামবিদ্বেষী শক্তি যেন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে না পারে, সে জন্য আলেম-ওলামাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ঢালকানগরের পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ আলম মতিন বিন হোসাইন, ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি জামে মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা হাসান জামিল, ঢাকার জামিয়া তালীমিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লী।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















