ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গত ৮ মাস দেশেই পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে আসছে ‘গ্রিনল্যান্ডের জনগণ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিতে পারে’ একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও টাকা কোথা থেকে আসবে বলছে না: নাহিদ বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে নিবিড় নজর ভারতের, সামরিক যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে জামায়াত নেতাকে খুন, টাকা-স্বর্ণ লুট জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় এবি পার্টির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু গণভোটে ‘না’ পাস হলে গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন ফখরুল

তারেক রহমানের দেশে ফেরা হবে ‘অবিস্মরণীয়’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

 

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর নির্বাসনে থাকার পর অবশেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে লাখো নেতাকর্মীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক তারেক রহমানকে সাদরে গ্রহণ করতে বিএনপি ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় সূত্র জানায়, তার দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক শক্তিশালী উপ-কমিটি গঠন করা হবে এবং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর আগে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে যৌথসভা করবেন মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা।

বিএনপি চায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা হোক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় দিন। সে লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে জনসমুদ্র সৃষ্টি করার প্রস্তুতি চলছে।

নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়, সে কারণেই তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর বেছে নেওয়া হয়েছে। দিনটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে, যা সরকারি ছুটির দিন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন,
“তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেবেন। তার নেতৃত্বে আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে মানবিক, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিতের বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন,
“অবৈধ ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকারের সময় নির্যাতিত, পরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারেক রহমানকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ সব জানে। তাই হাসিনার পতনের পর শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।”

তিনি জানান, তারেক রহমানের ফেরার দিন রাজধানীতে জনসমুদ্র তৈরিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

এদিকে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনটিকে ‘অবিস্মরণীয়’ করে রাখতে চায় দলটি। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির সমন্বয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগারে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। এরপর থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গে পরিণত হয়। অবশেষে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে বিরাজ করছে অতুলনীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সৃষ্ট সব বাধা দূর হবে।


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গত ৮ মাস দেশেই পালিয়ে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন, পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে

তারেক রহমানের দেশে ফেরা হবে ‘অবিস্মরণীয়’

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর নির্বাসনে থাকার পর অবশেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে লাখো নেতাকর্মীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক তারেক রহমানকে সাদরে গ্রহণ করতে বিএনপি ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় সূত্র জানায়, তার দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক শক্তিশালী উপ-কমিটি গঠন করা হবে এবং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। এর আগে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে যৌথসভা করবেন মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা।

বিএনপি চায় তারেক রহমানের দেশে ফেরা হোক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় দিন। সে লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে জনসমুদ্র সৃষ্টি করার প্রস্তুতি চলছে।

নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়, সে কারণেই তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন হিসেবে ২৫ ডিসেম্বর বেছে নেওয়া হয়েছে। দিনটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে, যা সরকারি ছুটির দিন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন,
“তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দেবেন। তার নেতৃত্বে আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে মানবিক, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিতের বাংলাদেশ।”

তিনি আরও বলেন,
“অবৈধ ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকারের সময় নির্যাতিত, পরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তারেক রহমানকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনগণ সব জানে। তাই হাসিনার পতনের পর শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।”

তিনি জানান, তারেক রহমানের ফেরার দিন রাজধানীতে জনসমুদ্র তৈরিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।

এদিকে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনটিকে ‘অবিস্মরণীয়’ করে রাখতে চায় দলটি। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সার্বিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির সমন্বয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাগারে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর সব মামলায় জামিন পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। এরপর থেকে প্রায় ১৮ বছর ধরে সপরিবারে সেখানেই বসবাস করছেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গে পরিণত হয়। অবশেষে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে বিরাজ করছে অতুলনীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলে গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সৃষ্ট সব বাধা দূর হবে।