ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলে: আসিফ নজরুল পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা, পরে পরিবারের সহায়তায় থানায় যুবক জাবিতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ-সুবিধা, তবু বাড়ছে অপচয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলী গ্রেপ্তার খালেদা জিয়ার নাম থাকায় বদলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা সামিট-এক্সিলারেট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট মিথ্যা ভান করার চেয়ে সত্যকে বেছে নেওয়া জরুরি: প্রভা ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তেরির পথে চীন রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট, পাম্প ছাড়িয়ে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ অপেক্ষা উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

সামিট-এক্সিলারেট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দুই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকেই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। রাতে ধাপে ধাপে সামিটের সরবরাহ বাড়ানো হয়।

একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সাধারণত প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে বর্তমান সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও রয়েছে।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবারের কারিগরি সমস্যায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার সরবরাহ শুরু করে সামিট। ধাপে ধাপে বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এ পরীক্ষার সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবারও সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করা সম্ভব হলে টার্মিনালটির সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলে: আসিফ নজরুল

সামিট-এক্সিলারেট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪০ কোটি ঘনফুট

আপডেট সময় ০২:২৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দুই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকেই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। রাতে ধাপে ধাপে সামিটের সরবরাহ বাড়ানো হয়।

একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সাধারণত প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে বর্তমান সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও রয়েছে।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও শুক্রবারের কারিগরি সমস্যায় সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার সরবরাহ শুরু করে সামিট। ধাপে ধাপে বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।

তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এ পরীক্ষার সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবারও সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করা সম্ভব হলে টার্মিনালটির সরবরাহ আরও বাড়বে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।