মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড মানেই নতুন কোনো আলোচনার জন্ম। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের কাউন্টডাউন যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের একটি মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের ট্রফিটি ওভাল অফিসে প্রদর্শনের জন্য নিজের কাছে রেখে দেওয়ার মজার ছলে করা মন্তব্য এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার খোরাক।
ঘটনার শুরু বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানের সময়। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ট্রাম্প যখন সোনালী ট্রফিটি হাতে নেন, তখন তিনি বলেন, ‘এটি বেশ ভারী।’ ট্রফিটি ডেস্কের ওপর রাখার সময় দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে ইনফান্তিনো দ্রুত তা সামলে নেন। এরপর ট্রাম্প হাসতে হাসতে ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সুন্দর একখণ্ড সোনা। আমি কি এটা রেখে দিতে পারি?’
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর থেকেই ফুটবল মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, তিনি হয়তো সত্যি সত্যিই ট্রফিটি নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। এর পেছনে অবশ্য যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আয়োজিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলকে মূল ট্রফিটি না দিয়ে রেপ্লিকা দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের এমন আচরণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই সময় চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফির বদলে রেপ্লিকা ধরিয়ে দেওয়ার পেছনে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছিল।
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য কি শুধুই কৌতুক, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো ইঙ্গিত? ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ট্রাম্প হয়তো ট্রফি হস্তান্তরের সময় নিজের স্টাইল বজায় রাখতে পারেন।
এর আগে বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড ইস্যু এবং ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তার পরের ম্যাচে মাঠে নামার ঘটনাটি বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার পর এবার বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে তার এই মন্তব্য ফুটবলের পবিত্রতা ও নিয়মের ওপর রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের দিকে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহাদ্বৈরথের পর ট্রফি কার হাতে উঠবে, আর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াই বা কী হবে—তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব। তবে মাঠের খেলায় কেউ ট্রফি নিয়ে যেতে পারুক বা না পারুক, ট্রাম্পের এই মন্তব্য যে আসরের আমেজকে নতুন বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

