চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহ্যামের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নজর কাড়ে সবার। তবে ম্যাচ শেষে এ ঘটনাকে বড় করে দেখার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার। প্রতিবেদন গ্লোবো এস্পোর্তের। ম্যাচের প্রথমার্ধে টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, মেসি ও বেলিংহ্যাম মাঠেই তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘এটি ছিল শুধুই একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নয়।’
তিনি বলেন, ‘মেসির সঙ্গে কথোপকথন? আসলে আমরা একটি ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। বিষয়টি মোটেও খারাপ কিছু ছিল না। আমি জানি, অনেকেই এটিকে বড় ঘটনা বানানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি।’ বেলিংহ্যাম আরও জানান, তিনি মনে করেছিলেন এর আগে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটি ফাউল দেয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে মেসি অভিযোগ করেন, তার ওপর হওয়া একটি ফাউলও রেফারি উপেক্ষা করেছেন।
ইংলিশ তারকা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, এর আগে একটি ফাউল হয়েছিল। তখন মেসি বললেন, ‘‘আর আমার ওপর যে ফাউল করা হয়েছিল?’’ আমি জবাবে বলি, ‘‘তুমি তো যথেষ্ট শক্তিশালী, এটা সামলে নিতে পারবে।’’ কথোপকথনটা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।’ মাঠে তর্ক হলেও ম্যাচ শেষে মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানান বেলিংহ্যাম। হতাশাজনক বিদায়ের পর তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে পারাটা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি পরাজিত দলের একজন, তাই কষ্টটা অনেক বেশি। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’ ইংল্যান্ডের আরেকটি বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বেলিংহ্যাম। ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ড এখনো বিশ্বকাপ শিরোপার দেখা পায়নি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে না পারার হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। বেলিংহ্যাম বলেন, ‘এটা সত্যিই ভীষণ কষ্টের। আমি সেই ইংল্যান্ড দলের অংশ হতে চেয়েছিলাম, যারা অবশেষে বিশ্বকাপ জিতবে। কিন্তু আবারও সমর্থকদের সামনে একই হতাশার গল্প বলতে হচ্ছে, যা তারা বহু বছর ধরে শুনে আসছেন। এজন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।’

