ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই ৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একজন অপদার্থকে বিদ্যুৎমন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে: জামায়াত আমির পড়তে-লিখতে জানেন না, শুনে শুনে ৭১ বছরে পুরো কোরআন হিফজ! সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনায় জামায়াত নেতারা জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার বিশ্ববাজারে তৃতীয় দফায় তেলের দামে বড় পতন মোহনপুরে বিধবা নারীকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে মসজিদে সোফা বসিয়ে সংসদ সদস্যের সভা

কারাগারে থেকে কীভাবে গাড়িতে আগুন দিলেন সাবেক মেজর সাদিক? ব্যাখ্যা দিল ভাটারা পুলিশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ভাটারায় প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত—এ নিয়ে আদালতের প্রশ্নের লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ভাটারা থানা পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ ব্যাখ্যা জমা দেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী। লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশনের পুলিশ কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেন।

পুলিশের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কেবি কনভেনশন হলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কথিত একটি গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। তদন্তে সাদিকুল হককে ওই কার্যক্রমের প্রধান প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে একাধিক গোপন সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পরবর্তীতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব সভা থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভাটারার বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাদিকুলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

এর আগে গত ৭ আগস্ট ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী ওই মামলায় সাদিকুলকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

তবে সাদিকুলের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন। তাহলে কারাগারে অবস্থান করে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত হলেন?

আইনজীবীর এই বক্তব্যের পরই পুলিশের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান আদালত। গত ১০ আগস্ট আদালত ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৬ আগস্টের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

এদিকে, সাদিকুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর একটি সামরিক আদালত সাদিকুল হককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অভিযোগের পর সেনাবাহিনীও তাকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর।

এখন ভাটারার গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

কারাগারে থেকে কীভাবে গাড়িতে আগুন দিলেন সাবেক মেজর সাদিক? ব্যাখ্যা দিল ভাটারা পুলিশ

আপডেট সময় ০৫:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর ভাটারায় প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত—এ নিয়ে আদালতের প্রশ্নের লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ভাটারা থানা পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ ব্যাখ্যা জমা দেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. চাঁদ আলী। লিখিত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশনের পুলিশ কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেন।

পুলিশের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কেবি কনভেনশন হলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কথিত একটি গোপন সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। তদন্তে সাদিকুল হককে ওই কার্যক্রমের প্রধান প্রশিক্ষক ও সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে একাধিক গোপন সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসব কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী পরবর্তীতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব সভা থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভাটারার বসুন্ধরা এলাকায় প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাদিকুলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

এর আগে গত ৭ আগস্ট ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী ওই মামলায় সাদিকুলকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

তবে সাদিকুলের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল কারাগারে ছিলেন। তাহলে কারাগারে অবস্থান করে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত হলেন?

আইনজীবীর এই বক্তব্যের পরই পুলিশের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান আদালত। গত ১০ আগস্ট আদালত ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৬ আগস্টের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

এদিকে, সাদিকুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর একটি সামরিক আদালত সাদিকুল হককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অভিযোগের পর সেনাবাহিনীও তাকে আটক করে সেনা হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর।

এখন ভাটারার গাড়িতে আগুন দেওয়ার মামলায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সেটিই দেখার বিষয়।