ঢাকা , শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত আসন ঘোষণা ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, সর্বোচ্চ ১৯০ আসন জামায়াতে ইসলামী ভোলায় বালিশ চাপায় স্ত্রীকে হত্যা, পাষণ্ড স্বামী আটক ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবি জামায়াতের, সিইসির সঙ্গে বৈঠকে প্রটোকল সমতার আহ্বান জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয়; নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মচারী গ্রেফতার বাউফলে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বাউফলে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে নির্বাচনে অংশ নেবে ১১ দল

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭২৫ বার পড়া হয়েছে

এবার মহান বিজয় দিবস নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়কে কেবল ভারতের বিজয় হিসেবে দাবি করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মোদির কুশপুত্তলিকা দাহসহ বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ নেটিজেন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই বক্তব্য বাংলাদেশের লাখো মাজলুমের রক্তে অর্জিত বিজয় দিবসের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে ভারতের একক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করাকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা এবং বিজয় দিবসকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

মোদির এই বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীরা মোদির বার্তার কড়া সমালোচনা করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মালিকানা কেড়ে নিয়ে একে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোদির পুরো পোস্টে কোথাও বাংলাদেশ বা মুক্তিযুদ্ধের নাম উল্লেখ না থাকাটা আধিপত্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। বারবার একই ধরনের দাবি করায় ভারতের বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে গভীর বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত মিত্রবাহিনী হিসেবে সহায়তা করলেও এটি মূলত বাঙালির বিজয়ের দিন। মোদির এই বক্তব্য সেই ঐতিহাসিক সত্যের অপআলাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাউফলে নির্বাচন ঘিরে একাধিক সহিংসতা; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বিএনপি—জামায়াতের

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

আপডেট সময় ০৪:০৮:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার মহান বিজয় দিবস নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়কে কেবল ভারতের বিজয় হিসেবে দাবি করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদে মোদির কুশপুত্তলিকা দাহসহ বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ নেটিজেন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির এই বক্তব্য বাংলাদেশের লাখো মাজলুমের রক্তে অর্জিত বিজয় দিবসের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ। ৩০ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে ভারতের একক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করাকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা এবং বিজয় দিবসকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

মোদির এই বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীরা মোদির বার্তার কড়া সমালোচনা করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মালিকানা কেড়ে নিয়ে একে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোদির পুরো পোস্টে কোথাও বাংলাদেশ বা মুক্তিযুদ্ধের নাম উল্লেখ না থাকাটা আধিপত্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। বারবার একই ধরনের দাবি করায় ভারতের বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে গভীর বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত মিত্রবাহিনী হিসেবে সহায়তা করলেও এটি মূলত বাঙালির বিজয়ের দিন। মোদির এই বক্তব্য সেই ঐতিহাসিক সত্যের অপআলাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।