কারাবন্দি সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে খাবার খাওয়ানোর আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুর রহমানের আদালতে যাত্রাবাড়ীতে এক শ্রমিক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়। এ সময় তার আইনজীবী মহসিন রেজা আমুর বয়স ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আধা ঘন্টা পর পর খাবার খাওয়ানোর অনুমতি চান। তিনি আদালতের কাছে স্যান্ডউইচ, পানি ও ডায়েট কোক দেওয়ার আবেদন করেন।

কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের ইন্সপেক্টর মো. জাহিদ “খাবার টেস্টিংয়ের বিষয়” উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেন। পরে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।

শুনানিতে আমুকে হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে এগুলো খোলা হয় এবং বয়স ও অসুস্থতার কারণে বসার জন্য তাকে টুল দেওয়া হয়।

আইনজীবী মহিমা বাঁধন বলেন, “উনার বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে, সব ধরনের রোগ আছে। স্ত্রী মারা গেছেন, আর বিয়ে করেননি, কোনো সন্তানও নেই। পরিবারের লোকজনও নেই, ম্যানেজারসহ ঘনিষ্ঠজনেরা উনাকে দেখভাল করেন।”

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. রিয়াজ নামের এক শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ফারজানা বেগম সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আমির হোসেন আমুও মামলার আসামি।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ধানমন্ডি থেকে ডিবি পুলিশ আমুকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে বিভিন্ন থানার মোট ২৩ মামলার মধ্যে ১৩টিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মেয়াদে খাদ্য, ভূমি, ত্রাণ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন।