রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়ে তারা অর্জন করেছে এক অভূতপূর্ব ভূমিধ্বস বিজয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।

জিএস পদে জয় পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নারী ফুটবলার ও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী নার্গিস খাতুন—তিনি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে একমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তোফায়েল আহমেদ তোফা।

ভিপি পদে সর্বোচ্চ ভোটে জয়ী হয়েছেন সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত সালমান সাব্বির সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস এষাকে।

এ ছাড়া অন্যান্য পদগুলোতেও শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন—

  • সাংস্কৃতিক সম্পাদক: জাহিদ হাসান জ্বোহা
  • সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক: রাকিবুল ইসলাম
  • সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক: আবু সাঈদ নাঈম
  • নারী বিষয়ক সম্পাদক: সাঈদা হাফসা
  • সহকারী নারী বিষয়ক সম্পাদক: সামিয়া জান্নাত

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে নাজমুস সাকিব, সহকারী পদে সিফাত আবু সালেহ; মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী পদে আসাদুল্লাহ হিল গালিব ও মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম জয়ী হয়েছেন।

বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন ইমরান লস্কর, সহকারী পদে নয়ন মুরসালিন।
পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী পদে মাসুমা ইসলাম মোমো নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয় পেয়েছেন দ্বীপ, সুজন চন্দ্র, ইমজিয়াউল আলি ও খালিদ হাসান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গণনা শুরু হয় রাত সাড়ে আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে।