ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পদত্যাগ করবেন না মমতা, পশ্চিমবঙ্গে জারি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসন? ইরান ‘চিরকাল’ হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করবে: সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ নজিরবিহীন পরিস্থিতি, একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গে? মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় থালাপতির শপথ আটকে গেল! যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান ‘আমি পদত্যাগ করবো না’, ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মরদেহ, সব গয়না নিয়ে পালালেন স্বামী

রায় আইনের শাসনের বিজয়, বাংলাদেশ নতুন যাত্রাপথে — প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫০৬ বার পড়া হয়েছে

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে—ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে, যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি এ রায় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার না হলেও এটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষ। নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়—রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ছিন্ন করেছিল।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ওই দমন-পীড়ন বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ, মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্র আঘাত হেনেছিল। “প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি জানান, আদালতে মাসের পর মাস ধরে নেওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে—নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পুনরায় ঘোষণা।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় ফিরে আসছে। পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিলেন এবং অনেকে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন—তাদের সেই ত্যাগই আগামীর পথ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন বিপন্ন করতে প্রস্তুত হয়েছিল, তা গভীরভাবে বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী ব্যবস্থা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আজকের রায় সেই দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমি পূর্ণ আস্থা রাখি—বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।”

আইনের শাসন, মানবাধিকার ও প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং স্থায়ী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক সহযোগিতা করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনূস-আসিফ নজরুল-শফিকুলসহ ১৬ জনের নামে মামলার আবেদন

রায় আইনের শাসনের বিজয়, বাংলাদেশ নতুন যাত্রাপথে — প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় ১০:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে—ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে, যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি এ রায় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার না হলেও এটি ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষ। নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়—রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ছিন্ন করেছিল।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ওই দমন-পীড়ন বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ, মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্র আঘাত হেনেছিল। “প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি জানান, আদালতে মাসের পর মাস ধরে নেওয়া সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে—নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার পুনরায় ঘোষণা।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় ফিরে আসছে। পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিলেন এবং অনেকে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন—তাদের সেই ত্যাগই আগামীর পথ তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য জীবন বিপন্ন করতে প্রস্তুত হয়েছিল, তা গভীরভাবে বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী ব্যবস্থা তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আজকের রায় সেই দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমি পূর্ণ আস্থা রাখি—বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।”

আইনের শাসন, মানবাধিকার ও প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং স্থায়ী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক সহযোগিতা করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।