ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে পুশ ইনের চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ একসঙ্গে র‍্যালি করলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা, বিতরণ হলো খেজুর-সেভেন আপ একটানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ পড়ায় ৯ শিশু পেল সাইকেল উপহার ‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক

নতুন সরকারের এক মাসের সাফল্য: সীমান্তে মৃত্যুহীন ৩০ দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

এবার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই এক অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখলো নতুন সরকার। গত ৩০ দিনে বাংলাদেশভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত পরিস্থিতির বিপরীতে এইজিরো ফিগারবা শূন্য প্রাণহানিকে সরকারের কঠোর নেতৃত্ব ওসবার আগে বাংলাদেশনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাসের এই খতিয়ান জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

এদিকে সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফএর গুলিতে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যা ছিলো গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছিলো। সেই বিভীষিকাময় প্রেক্ষাপট পেরিয়ে গত এক মাস সীমান্তে বিএসএফএর অস্ত্র নীরব থাকাকে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া কঠোর কূটনৈতিক বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সরকারের অনড় অবস্থানের ফলে বিএসএফ আগের চেয়ে সংযত আচরণ করছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিকতর সতর্ক ও স্বপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করছে।সবার আগে বাংলাদেশনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চোরাচালান ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বাহিনীটি। গত এক মাসে বিজিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই শান্ত পরিস্থিতিতে এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বিজিবি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সরকার আশা করছে, এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অচিরেই শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীকে পরিণত হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে পুশ ইনের চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

নতুন সরকারের এক মাসের সাফল্য: সীমান্তে মৃত্যুহীন ৩০ দিন

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

এবার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই এক অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখলো নতুন সরকার। গত ৩০ দিনে বাংলাদেশভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত পরিস্থিতির বিপরীতে এইজিরো ফিগারবা শূন্য প্রাণহানিকে সরকারের কঠোর নেতৃত্ব ওসবার আগে বাংলাদেশনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাসের এই খতিয়ান জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

এদিকে সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ বিগত বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফএর গুলিতে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যা ছিলো গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছিলো। সেই বিভীষিকাময় প্রেক্ষাপট পেরিয়ে গত এক মাস সীমান্তে বিএসএফএর অস্ত্র নীরব থাকাকে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া কঠোর কূটনৈতিক বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনা কারণে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সরকারের অনড় অবস্থানের ফলে বিএসএফ আগের চেয়ে সংযত আচরণ করছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অধিকতর সতর্ক ও স্বপ্রণোদিত ভূমিকা পালন করছে।সবার আগে বাংলাদেশনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চোরাচালান ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে বাহিনীটি। গত এক মাসে বিজিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই শান্ত পরিস্থিতিতে এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বিজিবি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই সাফল্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সরকার আশা করছে, এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অচিরেই শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীকে পরিণত হবে।