ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল: ওমান সৌদি আরব যুদ্ধে জড়ালে ব্যবহার হবে পাকিস্তানের পরমাণু! ইরানে আগ্রাসনের প্রভাবে ১০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হতে পারে মার্কিন অর্থনীতি বিবেকবান মার্কিনিরা এই ‘অবৈধ’ যুদ্ধ প্রত্যাখ্যান করবেন, বিশ্বাস ইরানের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় জামায়াত আমির চীনের উপহারকে যৌথ উদ্যোগ বলে বিতরণ, জামায়াতের বক্তব্যে চীনা দূতাবাসের উদ্বেগ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে ঈদ উদযাপন কাল ইরান আমাদের যুদ্ধ নয়, ট্রাম্পকে জানালো ইউরোপ বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন সঠিক নয়: দাবি সড়ক প্রতিমন্ত্রীর

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন বাংলাদেশের ২ অন্ধ হাফেজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

এবার রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানেরমাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’-এর অন্ধ বিভাগের ২ অন্ধ হাফেজ দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন। তারা পৃথিবীর ধুলোবালি দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা সরাসরি অনুভব করে আরশের মালিকের নূর। হাজার হাজার পৃষ্ঠা, লক্ষ লক্ষ হাদিসের অমীয় বাণীতারা মুখস্থ করেছেন কেবল আঙুলের ডগা দিয়ে। সাফল্যের এই মিছিলে এবার রচিত হলো এক অনন্য ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র হাফেজ জুবায়ের ও হাফেজ আব্দুর রহমান এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরদাওরায়ে হাদিসবা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, কিতাব পড়ার জন্য চোখের জ্যোতির চেয়ে হৃদয়ের ব্যাকুলতা বেশি প্রয়োজন।

আর সেই অদম্য সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাওয়া। তারা পবিত্র ওমরাহ পালন করে ফিরে এসেছেন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার মানচিত্র দেখেনি, তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতল গিলাফ। কাবা ঘরের দেয়ালে যখন তাদের হাত পড়েছে, তখন তাদের হৃদপিণ্ড হয়তো ডুকরে কেঁদে বলে উঠেছেহে মাবুদ, চোখ দাওনি তাতে আক্ষেপ নেই, আজ তোমার ঘর ছুঁয়ে দেখার এই তৃপ্তিই যে কোটি চোখের চাইতেও দামী! তারা ওমরাহ শেষ করে ফিরে এসেছেন এক বুক প্রশান্তি আর এক অনন্য বিজয় নিয়ে। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিলোসুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের চোখে আলো নেই সত্য, কিন্তু তাদের হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের রাজপথ স্পষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মনমানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের কান্নার ভিডিও ভাইরাল

দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন বাংলাদেশের ২ অন্ধ হাফেজ

আপডেট সময় ০৪:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

এবার রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানেরমাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া’-এর অন্ধ বিভাগের ২ অন্ধ হাফেজ দাওরায়ে হাদিস পাস করে ওমরাহ পালন করলেন। তারা পৃথিবীর ধুলোবালি দেখেনি, কিন্তু তাদের আঙুলের ডগা যখন ব্রেইল কুরআনের প্রতিটি বিন্দু স্পর্শ করে, তখন তারা সরাসরি অনুভব করে আরশের মালিকের নূর। হাজার হাজার পৃষ্ঠা, লক্ষ লক্ষ হাদিসের অমীয় বাণীতারা মুখস্থ করেছেন কেবল আঙুলের ডগা দিয়ে। সাফল্যের এই মিছিলে এবার রচিত হলো এক অনন্য ইতিহাস। এই মাদ্রাসা থেকে দুজন অদম্য মেধাবী ছাত্র হাফেজ জুবায়ের ও হাফেজ আব্দুর রহমান এবার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরদাওরায়ে হাদিসবা মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। তারা প্রমাণ করেছেন, কিতাব পড়ার জন্য চোখের জ্যোতির চেয়ে হৃদয়ের ব্যাকুলতা বেশি প্রয়োজন।

আর সেই অদম্য সাধনার পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছেন জীবনের শ্রেষ্ঠতম পাওয়া। তারা পবিত্র ওমরাহ পালন করে ফিরে এসেছেন। যারা কোনোদিন দুনিয়ার মানচিত্র দেখেনি, তারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন কাবার শীতল গিলাফ। কাবা ঘরের দেয়ালে যখন তাদের হাত পড়েছে, তখন তাদের হৃদপিণ্ড হয়তো ডুকরে কেঁদে বলে উঠেছেহে মাবুদ, চোখ দাওনি তাতে আক্ষেপ নেই, আজ তোমার ঘর ছুঁয়ে দেখার এই তৃপ্তিই যে কোটি চোখের চাইতেও দামী! তারা ওমরাহ শেষ করে ফিরে এসেছেন এক বুক প্রশান্তি আর এক অনন্য বিজয় নিয়ে। মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া আমাদের শিখিয়ে দিলোসুযোগ পেলে এই অবহেলিত মানুষগুলোই হতে পারে জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের চোখে আলো নেই সত্য, কিন্তু তাদের হৃদয়ের আয়নায় আজ জান্নাতের রাজপথ স্পষ্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে এমন মাদ্রাসা আছে কল্পনায় ছিলো না। অন্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠান আছে শুনেছি তবে বধিরদের জন্য প্রথম প্রতিষ্ঠান দেখলাম। তাদের জন্য কোরআন নতুন করে ছাপানো হয়েছে। দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি বধির শিক্ষার্থীদের জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা ইশারা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

এদিকে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়ার মুহতামিম বখতিয়ার হুসাইন সরদার বলেন, বর্তমানে অন্ধ ও বধির শিক্ষার্থীরা একই ভবনে অবস্থান করলেও, তাদের ভিন্ন ভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য আলাদা আবাসিক ও একাডেমিক ভবন স্থাপনের প্রয়োজন প্রকট। এতে তাদের মনমানসিকতা আরও সুন্দর ও বিকশিত হবে।