ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দশক ধরে ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে’: নেতানিয়াহুর পুরোনো দাবি নতুন হামলার পেছনে?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একই দাবি তুলে আসছেন—‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে’। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই পুরোনো দাবির পুনরাবৃত্তিই আজ ইরানের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার অন্যতম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

১৯৯২ থেকেই শুরু বিভ্রান্তির সূচনা

১৯৯২ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু দাবি করেন, “তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠবে।” পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে তার লেখা বই ‘Fighting Terrorism’-এও এই একই বক্তব্য পুনরায় উপস্থাপন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার

২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেসের এক কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরাক এবং ইরান উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দৌড়ে আছে।” এর কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়, যদিও পরবর্তীতে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অস্তিত্ব মেলেনি।

উইকিলিকস ফাঁস ও জাতিসংঘে কার্টুন বোমা

২০০৯ সালে উইকিলিকস ফাঁস করে, মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের কাছে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, “ইরান মাত্র এক বা দুই বছরের মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করবে।” এরপর ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় একটি বোমার কার্টুন দেখিয়ে বলেন, “পরবর্তী বসন্ত বা সর্বোচ্চ গ্রীষ্মের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক সীমায় পৌঁছে যাবে।”

বর্তমান প্রেক্ষাপট

আজ তিন দশকেরও বেশি সময় পরে, নেতানিয়াহুর সেই একই বক্তব্য ফের শোনা যাচ্ছে—“ইরান খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।” আর এই দাবিকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বাস্তবতা কী বলছে?

এই বছরের শুরুতে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।” তারপরও নেতানিয়াহুর এই দাবিগুলো থেমে নেই—বরং নতুন করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের ‘আশঙ্কা’।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামিনে মুক্তি পেলেন বিডিআরের সাবেক ৮ সদস্য

তিন দশক ধরে ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে’: নেতানিয়াহুর পুরোনো দাবি নতুন হামলার পেছনে?

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ নতুন নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একই দাবি তুলে আসছেন—‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে’। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই পুরোনো দাবির পুনরাবৃত্তিই আজ ইরানের ওপর সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার অন্যতম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

১৯৯২ থেকেই শুরু বিভ্রান্তির সূচনা

১৯৯২ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু দাবি করেন, “তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠবে।” পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে তার লেখা বই ‘Fighting Terrorism’-এও এই একই বক্তব্য পুনরায় উপস্থাপন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার

২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেসের এক কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরাক এবং ইরান উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দৌড়ে আছে।” এর কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়, যদিও পরবর্তীতে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অস্তিত্ব মেলেনি।

উইকিলিকস ফাঁস ও জাতিসংঘে কার্টুন বোমা

২০০৯ সালে উইকিলিকস ফাঁস করে, মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের কাছে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, “ইরান মাত্র এক বা দুই বছরের মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করবে।” এরপর ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতার সময় একটি বোমার কার্টুন দেখিয়ে বলেন, “পরবর্তী বসন্ত বা সর্বোচ্চ গ্রীষ্মের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক সীমায় পৌঁছে যাবে।”

বর্তমান প্রেক্ষাপট

আজ তিন দশকেরও বেশি সময় পরে, নেতানিয়াহুর সেই একই বক্তব্য ফের শোনা যাচ্ছে—“ইরান খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।” আর এই দাবিকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বাস্তবতা কী বলছে?

এই বছরের শুরুতে মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।” তারপরও নেতানিয়াহুর এই দাবিগুলো থেমে নেই—বরং নতুন করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে উসকে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের ‘আশঙ্কা’।