চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় চলছে। গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিজেকে সিআইএ–এজেন্ট দাবি করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী এই দল গঠনে শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন এবং নিয়মিত অর্থ সহায়তাও দিতেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এনায়েত প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে দলের বিভিন্ন খরচ বহন করতেন। বাকি অর্থ সংগ্রহ করতেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দলটি আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে ২৫ এপ্রিল—স্লোগান ছিল ‘গড়ব মোরা ইনসাফের দেশ’।
এনায়েত করিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদ (একাত্তর টিভির সাবেক জিএম অপারেশন)কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ২ লাখ টাকা বেতনে সহকারী হিসাবে রাখতেন এনায়েত; মোস্তফার মাধ্যমে টাকা–পয়সা পাঠাতেন তিনি। গুলশানে যে ফ্ল্যাটে এনায়েত থাকতেন, সেই বাড়িতে মোস্তফা থাকতেন; ভাড়া দিতেন এনায়েতই।
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, এনায়েতের সঙ্গে পুলিশের দুজন ডিআইজি এবং এক প্রভাবশালী সচিবের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের মামলা থেকে রক্ষা করার আশ্বাসে অন্তত দেড়শ কোটি টাকার ‘চুক্তি’ হয়েছিল বলে জানা গেছে, যদিও টাকা লেনদেনের প্রমাণ এখনো মেলেনি।
মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়ায় সন্দেহজনক অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় গত শনিবার এনায়েত করিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে; সেখানে থাকা ডেটায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে আছেন।
অন্যদিকে ইলিয়াস কাঞ্চন বিদেশে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর সাবেক মহাসচিব লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, “স্যার লন্ডনে আছেন, ফোনে পাওয়া যাবে না।”
তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, এনায়েত বর্তমান সরকারকে সরিয়ে ‘নতুন জাতীয় সরকার’ গঠনের মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ৬–৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল ও পরে গুলশানের ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন। তিনি নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠকও করেছেন।

