সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিনা খাতুনের অফিসে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যখন যুবদল নেতা নাজমুল হাসান রনি ও তার সহযোগীরা ঘুষের জন্য চাপ দিতে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তদের দাবি, তারা ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা সমন্বয়ক রনি ও তার সহযোগীদের পিটিয়ে অবরুদ্ধ করে।
আহত রনিসহ সহযোগীরা পরে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। তবে সমন্বয়ক রনি এই চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হাসান রনি, জেলা শাখার সদস্য আরিফ, আবু হাসান, দেবহাটা উপজেলা শাখার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মুজাহিদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মীর আরিফ, ইমরান হোসেন এবং জুলাই আহত নাহিদ ইসলাম।
দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম জানান, কয়েকজন যুবক অফিসারের উপস্থিতি জানতে এসে হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলাররা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন রনি অভিযোগ করেন, তার মামাত ভাইয়ের দূরসম্পর্কের একজন ডিলারশিপ পেতে উপজেলা ফুড অফিসারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন এবং সেই ভিডিও ফুটেজও আছে। রনি আরও দাবি করেন, অফিসার তাকে টাকা ফেরত নিতে বলেন। তবে ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুড অফিসার শাহিনা খাতুন টাকা দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, তিনি সদ্য যোগদান করেছেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেবেন। সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল বলেন, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে সরাসরি অফিসে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা কাম্য নয়।

